ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার বেশ কয়েকটি নির্বাচনী আসনে ভোট কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার রাত ২টায় দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন এনসিপির মুখপাত্র এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ।
তার দাবি, ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের আসনগুলোর ফলাফল বদলে দিতে মনস্তাত্ত্বিক চাপ দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কারসাজিও চালানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। যেসব আসনে বিএনপি প্রার্থীরা হারছেন এবং আমাদের ১১-দলীয় জোটের নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেখানে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টার সুস্পষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে ‘
‘উদাহরণ হিসেবে, ঢাকা-১৩ আসনে ঘোষিত ফলাফলে আমরা বারবার অনিয়ম লক্ষ্য করেছি। সংবাদমাধ্যম, ভোটকেন্দ্র এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আসা তথ্যের মধ্যে কোনো মিল নেই, যা কারচুপিরই ইঙ্গিত দেয়।’
এসময় তিনি বেশ কয়েকটি উদাহরণ টেনে আনেন।
ঢাকা-১৫ আসনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ভোটের ব্যবধান ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার থাকলেও বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার আগে তা হঠাৎ করে লাফিয়ে ৬১ হাজার থেকে ৮২ হাজারে পৌঁছে যায়।
ঢাকা-১৬, ঢাকা-১৭ এবং ঢাকা-১৯ আসনেও একই ধরনের অসামঞ্জস্যের কথা তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ।
তার দাবি, ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে গণনা করা ভোট প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের মোট সংখ্যার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ফলাফল ঘোষণায় দেরি হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন আসিফ।
তিনি বলেন, ‘যেসব কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন, সেগুলোর ফলাফল সন্ধ্যা ৭টায় গণনা শেষ হলেও রিটার্নিং কর্মকর্তারা রাত ১২টা পর্যন্ত তা ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। এটি একটি কৃত্রিম ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা যাতে মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যায়।’
সুষ্ঠু নির্বাচনে যে-ই ক্ষমতায় আসুক, জাতীয় নাগরিক পার্টি তাকে সহায়তা করবে জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘কিন্তু জালিয়াতির মাধ্যমে সরকার গঠিত হলে দেশে আস্থার সংকট বা কনফিডেন্সের শূন্যতা তৈরি হবে।’


