ফ্রান্সকে উড়িয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে স্পেন

ফ্রান্সকে উড়িয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে স্পেন
ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ফ্রান্সের জালে বল পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। ছবি: এপি/ ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে স্পেন। ১৫ জুলাই আর্লিংটনে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্সকে কোনো সুযোগই দেয়নি স্প্যানিশরা।

ম্যাচের ২২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। বক্সের ভেতরে লামিন ইয়ামালকে ফাউল করেন লুকা দিন। সেই পেনাল্টি থেকেই এগিয়ে যায় স্পেন।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ফাউলের শিকার হওয়ার মধ্যেও নিখুঁত দক্ষতায় বল ফিরিয়ে দেন ওলমো। ফরাসি রক্ষণে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গায় ঢুকে শান্ত মাথায় গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁকে পরাস্ত করেন পোরো। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় গোল। এর আগে শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও গোল করেছিলেন তিনি।

এই জয়ের ফলে আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

পুরো ম্যাচেই নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়নি ফ্রান্স। বলের দখল ধরে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে স্পেন।  পুরো ম্যাচে ফ্রান্সকে মাত্র একটি শট লক্ষ্যে রাখতে দিয়েছে তারা। চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স।

প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ফরাসি সেন্টার-ব্যাক উইলিয়াম সালিবা। তার পরিবর্তে নামেন ম্যাকসেন্স লাক্রোয়া।

আরও পড়ুন

ম্যাচজুড়ে হতাশ ছিল ফ্রান্স। শুরুতেই হলুদ কার্ড দেখেন আদ্রিয়েন রাবিও। ওসমান দেম্বেলের ওপর ফাউলের জন্য পাওয়া একটি ফ্রি-কিক বাতিল হওয়াসহ কয়েকটি সিদ্ধান্তও তাদের বিপক্ষে যায়।

বিরতির পর কোচ দিদিয়ের দেশম রাবিওর বদলে মানু কোনেকে মাঠে নামান। পরে থিও হার্নান্দেজ, রায়ান শেরকি ও দেজিরে দুয়েকেও নামানো হয়। তবে তাতেও ম্যাচে ফেরার মতো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ফরাসিরা।

পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেললেও এদিন স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণভাগের কাছে কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্রথমার্ধে তিনি মাত্র ১৫ বার বল স্পর্শ করেন। আগের দুই ম্যাচে তার বল স্পর্শের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪৪ ও ৪৫।

১৯ বছর পূর্ণ করার একদিন পর মাঠে নামা লামিনে ইয়ামাল ম্যাচের শেষ দিকে প্রায় তৃতীয় গোল পেয়ে গিয়েছিলেন। দারুণ একক প্রচেষ্টায় গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।

স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি। তবে যোগ করা সময়ে দেম্বেলের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন তিনি। শেষদিকে এমবাপ্পের নিশ্চিত গোলও দুর্দান্ত ট্যাকলে রুখে দেন মার্ক কুকুরেয়া।

২০২২ বিশ্বকাপের রানার্সআপ ফ্রান্স এবার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়ে শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ফাইনালের প্রস্তুতি শুরু করেছে স্পেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad