নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মো. ফজলুল হক (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দুই দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মো. রবিন (৩০) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গত শুক্রবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল সৈয়দপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকার আহসান ভিলার (মিয়া বাড়ি) সামনে মারধরের এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ফজলুল হকের বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ থানার দেউলাবাড়ি গ্রামে। তিনি গোদনাইল এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং ফতুল্লার একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ওই রাতে নোবেল শেখ নামে এক ব্যক্তি এক নারীর সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে থাপ্পড় দিয়ে ঝগড়া থামাতে বলেন। একইভাবে ফজলুল হকও ঝগড়া না করার পরামর্শ দেন। পরে নোবেল ফোন করে কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা ফজলুল হককে মারধর করে গুরুতর আহত করেন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে শনিবার তিনি বাড়ি ফিরে যান। পরে রোববার সকালে ভাড়া বাসায় হঠাৎ রক্তবমি করে তিনি মারা যান।
নিহতের মেয়ে ফারজানার অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে তার ছোট ভাই ফারুক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ওই মামলার বাদী ছিলেন তার বাবা ফজলুল হক। মামলাটি আপস বা তুলে নেওয়ার জন্য আসামিরা বিভিন্ন সময় তার বাবাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তাই ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে তিনি ও তার পরিবার সন্দেহ করছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, ‘মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটক করতে অভিযান চলছে। তবে এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।’


