নিরাপত্তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে গানম্যান দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদেক কায়েম।
সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সম্প্রতি জুলাই বিপ্লবের ছাত্র নেতৃত্ব, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সরকারের পক্ষ থেকে গানম্যান সংক্রান্ত বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়। তবে তিনি এই প্রস্তাব গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মাধ্যমে ‘খুনি’ হাসিনার পতনের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি দৃশ্যমান ও ন্যায্য পরিবর্তন আসবে।
কিন্তু বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার অভাব এবং বিভিন্ন দপ্তরে ‘ফ্যাসিবাদী’ শক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে জননিরাপত্তা বারবার ব্যাহত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকরভাবে সক্রিয় করে সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনলে আজ নিরাপত্তা নিয়ে এত উদ্বেগ থাকত না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এ প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন তোলা হয়–কেন সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।
নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সোমবার প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সম্পাদকসহ ২০ জনকে গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
এ বিষয়ে সাদেক কায়েম বিবৃতিতে বলেন, একদিকে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের হাতে ওসমান হাদিরা শহীদ হচ্ছেন, অথচ খুনিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। অন্যদিকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান দেওয়ার প্রস্তাব আসছে–এই বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে তার দ্বিধা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নিঃসন্দেহে সবার নিরাপত্তা প্রয়োজন। তবে সেই নিরাপত্তা যদি কেবল কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা ইনসাফপূর্ণ হয় না। দেশের আপামর মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণই আমাদের দাবি।
বিবৃতির শেষাংশে ডাকসু ভিপি বলেন, দেশের ছাত্র-জনতা এখনো অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান গ্রহণ করাকে তিনি বর্তমানে নিজের জন্য সঠিক মনে করছেন না।


