খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের অধিকার এবং পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে দেশে একই জমিতে কৃষি উৎপাদন ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সমন্বিত ব্যবস্থা (অ্যাগ্রিভোল্টাইক) সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
তিনি বলেছেন, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা অক্ষুণ্ন রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে অ্যাগ্রিভোল্টাইক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রতিটি উদ্যোগের কেন্দ্রে থাকতে হবে কৃষকের স্বার্থ ও সুফলের ন্যায্য বণ্টন।
বুধবার রাজধানীর এক হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল অ্যাগ্রিভোল্টাইকস ওয়ার্কশপ: এক্সপ্লোরিং লোকাল অ্যাকশন মডেল ফর ইনক্লুসিভ গ্রোথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততার বিস্তার, খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ ও পরিবর্তিত বৃষ্টিপাতের মতো বহুমুখী ঝুঁকির মুখোমুখি। এসব কারণে কৃষি, পানিসম্পদ, অবকাঠামো এবং গ্রামীণ জীবিকার ওপর চাপ বাড়ছে। একই সময়ে দেশে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানির চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি জানান, জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) ৩.০-এর আওতায় বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট জ্বালানির ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে সীমিত ভূমি ও উচ্চ জনঘনত্বের দেশে বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষিজমি রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, অ্যাগ্রিভোল্টাইক এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে একই জমিতে কৃষিকাজ এবং সৌর ফটোভোল্টাইক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন, পানির ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধি, বাষ্পীভবন হ্রাস এবং কৃষকের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৫-এ অ্যাগ্রিভোল্টাইককে সম্ভাবনাময় নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি প্রকল্পে অর্থবহ কৃষি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। সৌর প্যানেলের উচ্চতা, ব্যবধান ও অবস্থান এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে ফসল উৎপাদনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
মন্ত্রী বলেন, অ্যাগ্রিভোল্টাইক প্রকল্পের সুফল যেন কৃষকের কাছেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক যেন জমির প্রবেশাধিকার না হারান এবং কেবল সীমিত আর্থিক সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকেন। বরং তাদের কৃষিভিত্তিক জীবিকা সুরক্ষিত রেখে অতিরিক্ত ও পূর্বানুমানযোগ্য আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি বলেন, অ্যাগ্রিভোল্টাইক থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সৌরসেচ, হিমাগার, ফসল শুকানো, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল গ্রামীণ কার্যক্রমে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি ব্যবস্থা বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের মানুষের সহনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম বলেন, অ্যাগ্রিভোল্টাইকের বিস্তারে উপযুক্ত আর্থিক ও ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তোলা জরুরি। তিনি কার্বন অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি পরিবেশগত অখণ্ডতা, স্বচ্ছতা এবং জাতীয় কার্বনবাজারের নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল স্ট্র্যাটেজিস (আইজিইএস) এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশ যৌথভাবে পরিবেশ অধিদপ্তর, টেরা জাপান ও ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় কর্মশালার আয়োজন করে। এতে সরকারি প্রতিনিধি, গবেষক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।


