দুই বছর মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থেকেও বেতন তুলছেন অধ্যক্ষ

দুই বছর মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থেকেও বেতন তুলছেন অধ্যক্ষ
অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে গণঅভ্যুত্থানের পর এলাকা ছেড়ে যান পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চন্ডিপুর সিকেবি দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিত মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকলেও মাঝে মধ্যে গোপনে এসে হাজিরা খাতায় সই করে বেতন-ভাতা তুলে নেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ।

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের চন্ডিপুর সিকেবি দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে দীর্ঘদিনেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সম্প্রতি সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের পর অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ এলাকা ছেড়ে চলে যান। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে এলাকায় তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপর থেকে তিনি প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিত মাদ্রাসায় অনুপস্থিত।

মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসে এক বা দুইবার তিনি গোপনে মাদ্রাসায় আসেন। কখনো ভোরে, আবার কখনো রাতে এসে হাজিরা খাতায় সই করে চলে যান। পরে মাস শেষে মাদ্রাসার অফিস সহকারী তার বেতন বিল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, সভাপতির সইয়ের মাধ্যমে সেই বিল পাস হয়ে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার এক শিক্ষক জানান, কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সাকুয়াদিঘী গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছ থেকে আট লাখ টাকা নিয়েছিলেন অধ্যক্ষ।

এ ছাড়া, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকলেও লোকচক্ষুর আড়ালে হাজিরা খাতায় সই করে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষক।

আরও পড়ুন

সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষ তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। তবে হাজিরা খাতায় তার নিয়মিত উপস্থিতির সই দেখা গেছে।

মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রহমতুল্লাহ, আশিকুর রহমান, মিলন হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তাদের অধ্যক্ষকে দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসায় দেখা যায় না।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষমোজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘অধ্যক্ষ মাঝেমধ্যে মাদ্রাসায় আসেন। তবে তার বেতন তোলার বিষয়টি আমার জানা নেই।’

গত ৩০ জুন উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উপজেলা জামায়াতের আমির মহির উদ্দিন অভিযোগ করেন, ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ মুঠোফোনে বলেন, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজে প্রায়ই ঢাকায় অবস্থান করতে হয়। এ কারণে তাকে মাদ্রাসায় সবসময় দেখা যায় না। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বলেন, ‘অধ্যক্ষের বেতন-ভাতায় আমার কোনো ভূমিকা নেই। বেতন বিল অধ্যক্ষ ও সভাপতির সইয়ের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংকে যায়। তার অনুপস্থিতির বিষয়ে আগেই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে।’

মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘মাদ্রাসায় না গিয়ে হাজিরা খাতায় সই করে বেতন তোলার সুযোগ নেই। বিষয়টি সম্প্রতি জানার পর এ মাসের বেতন স্থগিত রাখা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খুব শিগগির তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad