হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন একপেশে: চিফ প্রসিকিউটর

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন একপেশে: চিফ প্রসিকিউটর
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ফাইল ফটো
Advertisement
Advertisement

আন্তর্জাতিক আইনগত মানদণ্ড সমুন্নত রাখতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ব্যর্থ হচ্ছে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এমন অভিযোগকে একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেনন, এইচআরডব্লিউ প্রসিকিউশন কিংবা তদন্ত সংস্থার বক্তব্য না নিয়েই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তার ভাষায়, এ ধরনের মূল্যায়নকে নিরপেক্ষ বলা যায় না।

বুধবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মঙ্গলবার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে গণহত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়ার বিষয়টি সামনে এনে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সেখানে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

এর জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রকাশিত বিবৃতির পেছনে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল থাকতে পারে। এটি নিরপেক্ষ কোনো প্রতিবেদন নয়।

আরও পড়ুন

তার দাবি, সংস্থাটির প্রতিনিধি দল যদি প্রসিকিউশন কিংবা তদন্ত সংস্থার সঙ্গে কথা বলত, তাহলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসত।

তিনি বলেন, তারা প্রসিকিউশন বা তদন্ত সংস্থার সঙ্গে কথা বলেনি। ফলে বর্তমান প্রতিবেদনটি একপাক্ষিক হয়েছে। কোনো আসামির মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে এটি প্রকাশিত হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে সাক্ষীদের জবানবন্দিতে একই ধরনের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তা নাকচ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, একই ঘটনার একাধিক আসামির বিচার হলে সাক্ষীদের বক্তব্যে সামঞ্জস্য থাকাই স্বাভাবিক। কারণ, একটি জায়গায় যদি ১০০ জন মানুষ শহীদ হন, আর এ ঘটনায় বিভিন্ন আসামির বিচার আলাদাভাবে হয়, তাহলে সাক্ষীদের বক্তব্যও একই ধরনের হবে। বরং ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য হলে তখনই প্রশ্ন ওঠার কথা।

বিষয়টি এইচআরডব্লিউ সঠিকভাবে বুঝতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে সামঞ্জস্যতা থাকা বাঞ্ছনীয়। কেননা সারাদেশে একই ধরনের অপরাধ, একইভাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অতএব সাক্ষ্যও একই ধরনের হবে। যা ঘটনা ঘটেছে, সাক্ষীরা সেটাই বলবেন। সেরকম বক্তব্য যদি একই রকম হয়, তাহলে দোষ কোথায়।

প্রসিকিউশন বা তদন্ত সংস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই জানিয়ে আমিনুল বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় অতিরিক্ত আইজিপি, এসপি, অতিরিক্ত এসপি পদমর্যাদার ২৩ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি প্রসিকিউশন টিমেও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ফৌজদারি আইনজীবীরা রয়েছেন। এসব কর্মকর্তা ও আইনজীবীর দক্ষতা বা মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ একটি দেশীয় আইন। তাই দেশের আইনজীবী ও বিচারকদের মাধ্যমেই এ বিচার পরিচালিত হবে। বিদেশি বিচারক বা আইনজীবী এনে বিচার পরিচালনার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বরং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টিসহ যেসব সংস্থা বারবার এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, তাদের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। যথাযথ তথ্য যাচাই-বাছাই না করে এবং আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তারা পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad