হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছে দলটি।
বুধবার রাতে পুলিশের চারটি ব্যারিকেড, বালুবোঝাই ট্রাক ও যানবাহনের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক মাহমুদের উপস্থিতিতে অভিযোগ জমা দেন এনসিপির নেতারা।
জানা গেছে, এনসিপির যুব শাখা যুব শক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তানভীর হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগটি দায়ের করেন। এদিন এনসিপি নেতারা মামলা দায়ের করার জন্য হবিগঞ্জ সদর থানায় যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়, যার ফলে তারা অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য পুলিশ ফাঁড়িতে যান।
এর আগে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে রওনা দিলেও হবিগঞ্জে প্রবেশ করতে পারেননি তারা। শেষ পর্যন্ত হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মুছাই এলাকায় আটকা পড়েন নেতাকর্মীরা। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এনসিপির নেতাকর্মীরা ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক মাহমুদ জানান, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে এনসিপি নেতাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন এনসিপির নেতারা। পরে দলের মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলমসহ কয়েকজন নেতা মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে অবস্থান নেন।
বুধবার বিকালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে রওনা হন। এর আগে হবিগঞ্জ শহরে একই স্থানে এনসিপি ও ছাত্রদলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
এদিকে, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেওয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সংঘাত এড়াতে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ এনসিপি নেতাদের শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এনসিপি নেতাদের বাধা দেওয়া হয়েছিল। হবিগঞ্জ সীমান্তে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা ছিল। কিন্তু তারা বাধা না মেনে হবিগঞ্জের দিকে চলে যান।


