টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কুষ্টিয়ার বাজারে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় চাষের মাছ থেকে শুরু করে সামুদ্রিক মাছের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বাড়তি দামে মাছ কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
শনিবার কুষ্টিয়া মিউনিসিপ্যালিটি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সাপ্তাহিক ছুটির দ্বিতীয় দিনে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল বেশ ভালো। তবে সরবরাহ কম থাকায় বেশিরভাগ মাছের দামই আগের সপ্তাচের তুলনায় বেশ চড়া।
আগের সপ্তাহে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৭০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া তেলাপিয়া মাছ এখন ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশের দাম দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা কেজি। একইভাবে অন্যান্য দেশীয় মাছের দামও আগের সপ্তাহের চেয়ে বেড়ে গেছে।
মাছ বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নদী-নালা ও বিভিন্ন জলাশয় থেকে মাছ আহরণ কমে গেছে। পাশাপাশি খামারের মাছের সরবরাহও কমেছে। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।
কুষ্টিয়া পৌর মাছ বাজারের ব্যবসায়ী মো. সোহেল বলেন, ‘বৃষ্টি ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে মোকামে মাছ কম আসছে। যে পরিমাণ মাছ আসছে, তার তুলনায় ক্রেতা বেশি। তাই পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে।’
বাজারে মাছ কিনতে আসা জুবায়ের নামের এক ব্যক্তি বলেন, আগের সপ্তাহের তুলনায় এখন মাছের দাম অনেক বেশি। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের নিয়মিত বাজার তদারকি প্রয়োজন, যাতে কেউ অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াতে না পারে।’
কুষ্টিয়া বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বাজারে মাছের সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে মাছের দামও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। কোনো অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি যেন না ঘটে, সে জন্য নিয়মিত বাজার তদারকি ও মনিটরিং করা হচ্ছে।’


