অটোরিকশার বৈধ নিবন্ধনসহ ৩ দাবিতে বিক্ষোভ

অটোরিকশার বৈধ নিবন্ধনসহ ৩ দাবিতে বিক্ষোভ
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বৈধ নিবন্ধন, চালকদের ওপর পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বিক্ষোভ করেছেন বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ‘অটোরিকশা উচ্ছেদের চক্রান্ত ও শ্রমিক হয়রানি বন্ধের দাবিতে সমাবেশ ও মিছিল’ লেখা ব্যানার নিয়ে কামরাঙ্গীরচর থেকে মিছিল বের করেন তারা।

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের ঢাকা মহানগর ইউনিটের সভাপতি নাঈম উদ্দিন বলেন, দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী অটোরিকশার ওপর নির্ভরশীল। এরপরও অনেকে যানজটের জন্য অটোরিকশাকে দায়ী করেন। তার মতে, এটি মধ্যবিত্তের ‘দ্বিচারিতা ও দোদুল্যমান চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ’।

যানজটের জন্য শুধু অটোরিকশাকে দায়ী না করে ব্যক্তিগত গাড়ি ও ভারী যানবাহনের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান নাঈম।

তিনি বলেন, ‘একটি মাত্র প্রাইভেট কার ঢুকলে পুরো রাস্তা ব্লক হয়ে যায়।’ একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ‘কমপক্ষে দুই থেকে তিনটি অটোরিকশার’ জায়গা দখল করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নাঈম বলেন, ‘ধনীক শ্রেণির রাষ্ট্র ভাঙতে হবে।’ শ্রমিক, কৃষক ও মধ্যবিত্তের একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার কথাও বলেন তিনি। তিন দফা দাবি মানা না হলে ‘আমরা ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে তুলব’ বলে হুঁশিয়ারি দেন।

আরও পড়ুন

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, এর আগে কামরাঙ্গীরচরে তাদের একটি পদযাত্রায় স্থানীয় সরকারি দলের সমর্থকেরা বাধা দেন।

নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি জাফর হোসেন অভিযোগ করেন, কামরাঙ্গীরচরে কর্মসূচিতে স্থানীয় সরকারি দলের ইউনিটের নেতা-কর্মী ও কামরাঙ্গীরচর থানা কমিটির সভাপতি বাধা দেন। এ সময় কাছাকাছি দুটি পুলিশের গাড়ি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

জাফর হোসেনের অভিযোগ, বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাজ্জাককে মারধর করা হয়। এতে তিনি ‘গুরুতর আহত হন’।

জাফর বলেন, ‘আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আগের ফ্যাসিবাদের পর নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে।’ অটোরিকশা শ্রমিকদের সমর্থনে আয়োজিত কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘শ্রমিকদের শ্বাসরোধ করা হচ্ছে।’

বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজ্জাক পেশায় রিকশাচালক। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’ দুই দলকেই ‘সাম্রাজ্যবাদের দালাল’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলনের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার’ আহ্বান জানান রাজ্জাক।

সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো, সব ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অবিলম্বে বিনামূল্যে ও বিনাশর্তে বৈধ লাইসেন্স ও নিবন্ধন দিতে হবে। অটোরিকশা শ্রমিকদের ওপর পুলিশি হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিকশার জন্য পৃথক বাই-লেন তৈরি করতে হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad