ব্যাংকের ঋণ অনুমোদন ও পরিচালনা ব্যবস্থায় পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা কমানো, বড় ঋণের ক্ষেত্রে পেশাদার ক্রেডিট কমিটির যাচাই, কেন্দ্রীয় জামানত নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু এবং খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের ঋণ সুবিধা সীমিত করাসহ ব্যাংক খাতে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আর্থিক খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন সাংবাদিকদের কাছে দলটির প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন।
ঋণ অনুমোদনে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা কমানোর প্রস্তাব দিয়ে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘পরিচালনা পরিষদের ওপরে ব্যাংকের ইনভেস্টমেন্ট বা লোন, যেটাই বলেন, এটার দায়িত্ব তাদের কাছে আমরা রাখতে চাচ্ছি না।’
তিনি বলেন, ঋণ অনুমোদনের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করে তা অনুসরণের দায়িত্ব ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দেওয়া উচিত। বড় ঋণের ক্ষেত্রে পেশাদার ক্রেডিট কমিটির যাচাইয়ের পর ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনার অনুমোদন নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে।
ঋণ অনিয়মের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সাইফুল বলেন, ‘যখন মামলা হয় তখন কিন্তু অফিসার ধরা পড়েন, ডিরেক্টর সাহেবরা ধরা পড়েন না।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের যোগাযোগের রেকর্ড সংরক্ষণের প্রস্তাবও দিয়েছে জামায়াত। এ বিষয়ে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর, অন্যান্য অফিসার যারা কমার্শিয়াল ব্যাংকের সুপারভিশনের সঙ্গে রিলেটেড, এদের সমস্ত টেলিফোন কথাগুলো রেকর্ড করতে হবে।’
একই জামানত একাধিক ব্যাংকে ব্যবহার করে ঋণ নেওয়া ঠেকাতে কেন্দ্রীয় জামানত নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনায় একটি পরিবারের অতিরিক্ত প্রভাব নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংকের শেয়ার ধারণের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেন সাইফুল।
তিনি বলেন, ‘একজন ব্যক্তি এবং তার নিকট পরিবারের সদস্য কত শতাংশ বাণিজ্যিক ব্যাংকের শেয়ার নিতে পারবেন, সেটা নির্ধারণ করতে হবে।’
সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সমপর্যায়ের পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনের আগে তাদের শেয়ার ও অন্যান্য বিনিয়োগের তথ্য ঘোষণা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও দিয়েছে দলটি।
খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের অন্য ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ বা অন্যান্য সুবিধা নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করার ওপরও জোর দেন সাইফুল। তিনি বলেন, ‘লোন ক্লাস পদ্ধতি আরও কঠোর হতে হবে। উইলফুল ডিফল্টারকে নির্ধারণ করতে হবে।’
ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নিরূপণে ফরেনসিক অডিটের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সাইফুল বলেন, ‘ফরেনসিক অডিট করতে হবে। আমার আসলে এনপিএল কত, এটা আমি জানতে পারছি না।’
এ ছাড়া দেশে ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত। এ বিষয়ে সাইফুল বলেন, ‘এতটুকু দেশে এত ব্যাংক আমাদের দরকার নেই।’
এসএমই ও কৃষি খাতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশে ব্যবসায়ীদের অফিসের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অপসারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের বিষয়েও সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।


