পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারী বর্ষণ থেকে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩২ জনে। বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে।
শনিবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন সর্বশেষ এ তথ্য জানিয়েছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার বুনেরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া গিলগিট-বালতিস্তানে ১২ জন এবং পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে, শুক্রবার আকস্মিক বন্যায় শুধু খাইবার পাখতুনখোয়াতেই ২০০ জনের বেশি মানুষ মারা যান।
প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (পিডিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, বুনের এলাকায় গত ৪৮ ঘণ্টায় ২০৮ জন মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১২০ জন। ডেপুটি কমিশনার কাশিফ কায়ূম খানের কার্যালয় জানিয়েছে, এখনো অন্তত ৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বুনের, সোয়াত, বাজৌর, বাটাগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু বাড়িঘর ও দোকান ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুনের বৈশন্ত্রি গ্রামে এত মানুষ মারা গেছেন যে দাফন-কাফনের জন্য গ্রামে কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পাশের গ্রামের লোকজন গিয়ে তাদের সাহায্য করে।
প্রায় দুই হাজার উদ্ধারকর্মী ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহ উদ্ধারে এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় কাজ করছেন।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আরও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি এলাকা দুর্যোগপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর জন্য জরুরি সহায়তায় ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।


