গুপ্তরা সবসময় পশ্চাৎমুখী রাজনীতি করে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘গুপ্ত একটি পশ্চাৎপদ ও পশ্চাৎমুখী রাজনৈতিক শক্তি। এটি আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন এবং দলের অনেকেরও বিশ্বাস।’
রোববার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই স্মরণ ও প্রত্যয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, জুলাই ছিল একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান, যার লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র, নাগরিক স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এই আন্দোলনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রাণ হারালেও তাদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারী শক্তিকে পরাজিত করেছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল এবং দমন-পীড়ন, গুলি ও সহিংসতার মধ্যেও তারা পিছু হটেনি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ের অভ্যুত্থান একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ছিল এবং জুলাই আন্দোলনের সময় দলটির শীর্ষ নেতারাও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি তরুণ রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন প্রজন্মের রাজনীতি হওয়া উচিত প্রগতিশীল, অগ্রগামী ও গণতান্ত্রিক। পশ্চাৎমুখী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে জোট গঠনের সমালোচনা করে তিনি রাজনৈতিক বিরোধিতায় শালীন ভাষা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ঘৃণা, কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের রাজনীতি গণতন্ত্র ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা দেখলাম, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেলেন এমন অনেকে, যাদের গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন বা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পক্ষে কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল না। পরবর্তীতে তারা দায়িত্ব পেয়ে নিজেদের একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া শুরু করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ যখন গণতান্ত্রিক পরিবেশে দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত শিক্ষকদের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তখন কেউ কেউ এটিকে দলীয় বিবেচনার নিয়োগ বলে প্রচার করছেন। যারা এমন বয়ান তৈরি করছেন, তারাই গুপ্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন এবং প্রকাশ্য রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছেন।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হয়েও কেউ কেউ ভয়ভীতি ও হুমকির রাজনীতি করছেন, যা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শিক্ষার্থীরা যাদের নির্বাচিত করেছে, তাদের দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের আন্দোলন। সেই আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন। তবে আজও প্রশ্ন রয়ে গেছে সেই আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন আদৌ হয়েছে কি না।
তিনি বলেন, যারা জুলাই-আগস্টে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই আজ কর্মসংস্থানহীন অবস্থায় রয়েছেন। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই জুলাই-আগস্টের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আন্দোলনের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে। অন্যথায় দেশ কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতির পথে এগোতে পারবে না।
রাহী আরও বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এখনো বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। কেউ পাকিস্তানি ভাবধারা ধারণ করছে, আবার কেউ ভারতের আধিপত্যবাদকে সমর্থন দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।


