জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ বিভিন্ন শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ সময় তিনি স্বজনহারাদের অভাব-অভিযোগ, আর্থিক সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠান শেষ হয় বেলা আড়াইটায়। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক প্রতিটি পরিবারের সদস্যের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। তাদের সংসারের বর্তমান অবস্থা, সন্তানদের লেখাপড়া, আর্থিক পরিস্থিতি এবং কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কি না—এসব বিষয়ে খোঁজ নেন। পাশাপাশি যেকোনো প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ পরিবার উপস্থিত হলেও চট্টগ্রামের প্রথম এবং দেশের দ্বিতীয় জুলাই শহীদ হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সদস্য নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরে পৌঁছান। ওয়াসিমের বোন সাবরিনা ইয়াসমিন সোমা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত জেলা প্রশাসক তার কার্যালয়ে অপেক্ষা করেন। পরে তিনি সাবরিনাকে স্বাগত জানিয়ে পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজন হলে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
সাবরিনা ইয়াসমিন সোমা বলেন, ‘আমি নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে পৌঁছেছিলাম। কিন্তু ডিসি স্যার আমার জন্য অপেক্ষা করেছেন। পরে তার কার্যালয়ে গিয়ে পরিবারের সবার বিষয়ে কথা বলেছি। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।’
সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগাহ বউবাজার এলাকার শহীদ আলমের স্ত্রী নয়ন বেগম, ঈদগাহ ঝরনাপাড়া এলাকার শহীদ ইউসুফের স্ত্রী সাজেদা আক্তার, লোহাগাড়ার আমিরাবাদ এলাকার শহীদ ইশমামুল হকের ভাই মুহিবুল হক এবং চকবাজার-বাকলিয়া এলাকার শহীদ শহীদুল ইসলামের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম। এ ছাড়া শহীদ ওমর বিন নুরুল আবছারের মা রুবি আক্তার, শহীদ মাহামদুর রহমান সৈকতের চাচা আমজাদ হোসেন, শহীদ জামালের স্ত্রী তসলিমা বেগম এবং শহীদ মাহিনের মা রহিমাও উপস্থিত ছিলেন।
তারা পরিবারের আর্থিক সংকট, নিরাপত্তাহীনতা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার কথা জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন।
সাজেদা আক্তার বলেন, ‘ডিসি স্যার জানতে চেয়েছেন আমরা কেমন আছি, সন্তানদের অবস্থা কেমন এবং কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না। যেকোনো সমস্যায় তার কাছে যেতে বলেছেন।’
মুহিবুল হক বলেন, ‘নিরাপত্তাহীনতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা খোলামেলা কথা বলতে পেরেছি। তিনি মনোযোগ দিয়ে সব শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শহীদ পরিবারগুলো একা নয়। জেলা প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকবে। কোনো সমস্যা বা জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।


