বিআরটিসির বাস সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাড়া বন্ধে রিট

বিআরটিসির বাস সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাড়া বন্ধে রিট
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস ইজারা বা ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে সেগুলো সাধারণ যাত্রীদের গণপরিবহন সেবায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে রিটটি করেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন আইন, ২০২০-এর ৫ ও ২২ ধারা অনুযায়ী বিআরটিসির বাস জনস্বার্থে সাধারণ যাত্রীদের গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু এ বিধানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয়, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য বাস ইজারা বা ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। রিটকারীর দাবি, এ কার্যক্রম আইনগতভাবে এখতিয়ারবহির্ভূত।

রিটে বিআরটিসির বাস ইজারা নীতিমালা, ২০০৭-এর ৩ নম্বর অনুচ্ছেদও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী কেবল অভিজ্ঞ বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবসায়ীরা বাস ইজারা নিতে পারবেন। এ ছাড়া ৫(১৭) অনুচ্ছেদে বাস তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রিটকারীর ভাষ্য, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাস ইজারা দেওয়া ওই নীতিমালার পরিপন্থী।

আরও পড়ুন

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, জনগণের করের টাকায় কেনা বাস সাধারণ মানুষের ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করে সরকারি কর্মকর্তাদের যাতায়াতে বরাদ্দ রাখা সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের আইনের সমান আশ্রয় ও সুরক্ষার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রিটে অর্থনৈতিক যুক্তি তুলে ধরে বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিআরটিসি থেকে বাস ভাড়া নিলে রাষ্ট্রের অর্থ এক সরকারি খাত থেকে অন্য সরকারি খাতে স্থানান্তরিত হয়। এতে অর্থনীতিতে আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং ফিসকাল মাল্টিপ্লায়ার প্রভাব স্থবির হয়ে পড়ে বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারি যাতায়াতের জন্য বেসরকারি পরিবহন খাত থেকে বাস ভাড়া করা হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতো বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটকারীর দাবি, বিপুলসংখ্যক বিআরটিসি বাস সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে ব্যবহৃত হওয়ায় সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীরা গণপরিবহন সংকটে পড়ছেন এবং প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

রিটে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসির বাস ইজারা বা ভাড়া দেওয়ার কার্যক্রম কেন বেআইনি ঘোষণা করে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি যাতায়াতে ব্যবহৃত সব বিআরটিসি বাস অবিলম্বে প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য নিয়মিত বাণিজ্যিক রুটে পুনর্বহালের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad