প্রায় সাত বছর পর আমি আবার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিলাম। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা ছিল সেটি। অনুষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল শুধু এই কারণে নয় যে, তারেককে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ধরা হচ্ছে, বরং এ কারণেও যে এটি আগামী দিনগুলোতে ক্ষমতা ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক কেমন হতে পারে, তার একটি ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশের কয়েকজন কঠোর সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে যেভাবে তিনি সামলেছেন, তাতে আমি মুগ্ধ হয়েছি। শান্ত, সংযত ও স্পষ্টভাষী তারেক রহমান তার রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে অনুষ্ঠান শেষে এক ধরনের অস্বস্তি বোধ করেছি। যে বিষয়টি আমাকে বিচলিত করেছে, তা তারেকের আচরণ…
Author: এম আবুল কালাম আজাদ
২০২৪ সাল যদি বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিয়ে থাকে, তবে ২০২৫ সাল তাকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর যে বছরটি স্থিতিশীল হওয়ার কথা ছিল, সেটি উল্টো চরম বিশৃঙ্খলার বছরে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক দিকভ্রান্তি, অনিয়ন্ত্রিত সহিংসতা, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও জননিরাপত্তার চরম অবনতি বছরজুড়ে বজায় ছিল। বছরের শেষে দেখা গেল রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়েছে, সমাজ বিভক্ত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্তৃত্ব হারিয়েছে। এই সংকটের মূলে ছিল একটি নিষ্প্রভ অন্তর্বর্তী সরকার, যারা পরিস্থিতির চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী থাকা সত্ত্বেও তারা অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেয়েছে। উগ্র জনতা বেপরোয়া হয়ে ওঠে, মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে এবং শাসনের ওপর মানুষের আস্থা কমতে…
খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচয়ে ধর্মীয় উৎসব বড়দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লির একটি গির্জায় গিয়ে প্রার্থনায় অংশ নেন। অথচ একই সময়ে তার দল ও সরকারের মদদপুষ্ট কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে খ্রিষ্টানদের ওপর হামলা চালায় এবং ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেয়। বেশিরভাগ হামলার ঘটনা ঘটেছে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে, যেমন মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, আসাম ও হরিয়ানা। আসামের নলবাড়ি জেলায় বজরং দল একটি খ্রিষ্টান মিশনারি স্কুলে ভাঙচুর চালায়। এই সংগঠনটি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) সঙ্গে মিলে, বিভিন্ন রাজ্যে বড়দিন উদযাপনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেয়। গত ২৪ ডিসেম্বরও একই ধরনের ঘটনা ঘটে একাধিক বিজেপি-শাসিত রাজ্যে। জয়পুর, বিদিশা, ভোপাল, গুয়াহাটি, বেরেলি ও ইন্দোরসহ বিভিন্ন…
দীর্ঘ ১৭ বছর ৩ মাসের নির্বাসিত জীবন শেষ করে যুক্তরাজ্য থেকে আজ দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের বর্তমান নাজুক সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার এই প্রত্যাবর্তনকে কেবল বিএনপির জন্য নয়, বরং গোটা বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে যখন বিশৃঙ্খলা আর প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, ঠিক তখনই তারেক রহমানের এই ফেরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক শূন্যতার মাঝে তার প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশগ্রহণ জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি এখন দেশের বৃহত্তম সক্রিয় রাজনৈতিক দল। এই অবস্থায় তারেক রহমানের সামনে…
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন দু’টি সমান্তরাল সংকটের দোলাচলে দাঁড়িয়ে আছে বিএনপি। একটি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি, অন্যটি তার ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন। একটি সংকট অন্যটিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে এই দুই সংকট মিলে জল্পনা-কল্পনার এক ধূম্রজাল সৃষ্টি করেছে। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এখন আবেগ, নৈতিক ও রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। একজন সন্তানের কাছ থেকে আশা করা হয়, সে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অসুস্থ মায়ের শয্যাপাশে ছুটে আসবে। তবুও, তারেক রহমান সব আবেদন, চাপ এবং জনপ্রত্যাশা উপেক্ষা করে লন্ডনেই রয়ে গেছেন। তার এই অনুপস্থিতি ফিসফিসানি, সন্দেহ এবং ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে আরও উসকে দিয়েছে। ধারণা করা…
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা আর নানা সংশয় কাটিয়ে অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে যাচ্ছে। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে। সেই প্রস্তুতির ভিত্তিতে বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার এই তফসিল ঘোষণা করবে ইসি। বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীসহ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা এই তফসিল ঘোষণাকে দেশের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মূলধারায় নিয়ে আসতে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন বলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান আল মাছউদ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত হওয়ার পর…
ওয়ারেন্ট, অভিযোগ কিংবা কোনো কারণ না দেখিয়েই সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলকে ডিবির আটকের ঘটনা আবারও একটি দীর্ঘদিনের সমস্যাকে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে—রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাগরিকদের হয়রানি, ভয় দেখানো এবং বেআইনিভাবে আটকে রাখা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ডিবি প্রধান যেভাবে একেবারে হেলাফেলায় মধ্যরাতে ‘একটি কথা বলার’ জন্য একজন সাংবাদিককে তুলে আনার নির্দেশ দেন। এমন আলোচনার জন্য রাত পোহানো পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেত না—এই দাবি শুধু হাস্যকরই নয়, বরং আইনের প্রতি উপহাস। সোহেল কোনো অপরাধী নন, পলাতকও ছিলেন না। তবু মধ্যরাতে ডিবির একটি দল তার বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে জোর করে নিয়ে যায়। এর চেয়েও গুরুতর বিষয় হলো, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই…
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কক্ষে তখন বিরাজ করছে এক নিস্তব্ধ উত্তেজনা। যেন ইতিহাসের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে সবাই। রায় ঘোষণার নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ১১টার অনেক আগেই বিশাল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষটি ভরে যেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে প্রবেশ করেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও আইনজীবীরা। অন্যদিকে, কক্ষে প্রবেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত কয়েকজন, কিছু ছাত্রনেতা এবং মানবাধিকার কর্মীদের মাঝে ছিল এক ধরনের ব্যস্ততা। ভোর থেকে অপেক্ষারত কয়েক ডজন সাংবাদিককে কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় বেলা ১১টার কিছু পরে। ততক্ষণে অতিরিক্ত আসন ভরে গেছে, মানুষজন দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়াতে শুরু করেছে। দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ানোর জায়গাও ছিল খুবই কম। আইনজীবীদের একটি দর নিয়ে আসেন অ্যাটর্নি জেনারেল। আগেই নিজ…
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ অনুসন্ধান কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছেন। তার তদন্তের অন্যতম দিক হচ্ছে অপরাধের ফোনালাপ, ছবি, ভিডিও ফুটেজের মত ডিজিটাল ডেটা বা ফুটপ্রিন্ট সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ। কিন্তু অপরাধীরা পালানোর আগেই সব আলামত ধ্বংস বা মুছে ফেলেছিলেন। তাহলে কিভাবে সেসব আলামত উদ্ধার করলেন তানভীর হাসান জোহা? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজ জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ের করা প্রথম একটি মামলার রায় দেবে, যার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অপরাধ প্রমাণে এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তানভীর হাসান জোহার উদ্ধার করা আলামত। ঐতিহাসিক এই রায়ের আগে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন টাইমস অব…
নেপালি ছাত্র বিপিন জোশি কৃষি নিয়ে পড়াশোনার জন্য হিসেবে গাজার নিকটবর্তী ইসরায়েলের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থান করছিলেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস সেখানে হামলা করে প্রায় এক হাজার ২০০ মানুষকে হত্যা করে। সে সময় তারা অপহরণ করে আড়াইশ’ জনকে, এদেরই একজন বিপিন। এরপর প্রায় দুই বছর হতে চলল। বিপিন বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন, তার পরিবার তা জানে না। পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন তার কথা ভাবেন। আশা করেন, বিপিন হয়তো এখনো বেঁচে আছে। তার মা ও বোন এটাও ভাবেন যে, অপহরণকারীরা তাকে ঠিকমতো খেতে দেয় কি না বা তার গায়ে জামা কাপড় রয়েছে কি না। বিপিন বেঁচে আছেন, এমন আশায় তার…

