জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাংবাদিক সমাজ ‘ভয়ভীতিহীন মুক্ত সাংবাদিকতা’ আশা করেছিল। কিন্তু দৃশ্যত পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্বপালন করতে গিয়ে শিকার হচ্ছেন হত্যা, মারপিট, হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার। এসব বিষয়ে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ টাইমস অব বাংলাদেশের স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স এডিটর এম আবুল কালাম আজাদকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন খোলামেলা কথা। ‘কমিশন কোনো অবাস্তব সুপারিশ দেয়নি’ জানিয়ে জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক বলেন, ‘বেশিরভাগ সুপারিশ শুধু সরকারি নির্দেশনা ও নীতিমালা হালনাগাদ করে বাস্তবায়ন করা সম্ভব ছিল।’ ‘কিন্তু সুপারিশমালা বাস্তবায়নে তথ্য মন্ত্রণালয় উল্টো পথে হাঁটছে,’ অভিযোগ করেন তিনি। ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি হলে, জবাবদিহি ও আইনের শাসন না থাকলে সাংবাদিকরাও…
Author: এম আবুল কালাম আজাদ
তিন দিনের সরকারি সফরে সম্প্রতি ঢাকায় এসেছিলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। দেশটির এ পর্যায়ের কোনো মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের এই ঘটনা ঘটল দীর্ঘ ১৩ বছর পর। এই সফরে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসহাক দার। এসব বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের ওপর ভারতের প্রভাব এবং তা মোকাবেলার প্রসঙ্গ টানেন বলে জানিয়েছেন দলগুলোর কয়েকজন নেতা। ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও সদ্য প্রতিষ্ঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। বৈঠকে ঢাকা-ইসলামাবাদ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় উঠে আসে। পাশাপাশি পাকিস্তানি প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের ওপর ভারতের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী ছিলেন বলে…
কোনো বিদেশি প্রতিনিধির সফর সাধারণত দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করার জন্য একটি রুটিন বিষয় হিসেবে দেখা হয়। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ধরনের সফরের আগে কূটনীতিকরা নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নানা গোপন তৎপরতা করে থাকেন। এছাড়া যখন সফররত প্রতিনিধির সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, তখন এটি একটি সংকেত দেয় যে, সফরটি শুধুমাত্র দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় সফরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর গুরুত্ব তারচেয়ে অনেক বেশি কিছু। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের তিন দিনের বাংলাদেশ সফরের প্রথম দিনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) – এই তিনটি প্রধান দলের সঙ্গে করা বৈঠকে…
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আরেকটি সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখার পর শেখ হাসিনা হয়তো ভেবেছিলেন, তার শাসনের ভিত এতটাই মজবুত যে তা আর নড়বে না। সে সময় রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ ছিল কিছুটা ভঙ্গুর, অধিকাংশ বিরোধী মতকেও কণ্ঠরোধ করা গেছে, আন্তর্জাতিক মিত্ররা সমালোচনামুখর হলেও হাসিনা সরকারকে বরাবরের মতো সমর্থন দিয়ে আসছিল। আমলাতন্ত্র, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও বিদেশি কূটনীতিকদের সহানুভূতিপূর্ণ সহযোগিতাও ছিল। সবমিলিয়ে তখন বিতর্কিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনী বিতর্ক ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যাচ্ছিল। তবে সব হিসেব-নিকেশ উল্টে দিয়ে ধেয়ে এলো শ্রাবণ বিদ্রোহের ঝড়। শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে এর সূচনা হলেও শিগগিরই টানা দেড় দশকের পুঞ্জিভূত ক্ষোভে জনতাও যুক্ত হন আন্দোলনে, প্রবল ঝড়ের ধাক্কায়…

