সম্মাননা পর্বের আনুষ্ঠানিকতা তখন শেষ। নিজের ছেলের হাত ধরে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সেন্টার উইকেটের কাছে গিয়ে পায়ে ভর করে বসলেন রুবেল হোসেন। তাকালেন, ছুঁয়ে দেখলেন, চুমু খেলেন ওই ২২ গজে। ২০০৯ সালের ১৪ জানুয়ারি এই মাঠেই তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু রুবেল হোসেনের। ১৭ বছর পর এই হোম অফ ক্রিকেটেই আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন পেসার হান্টে গতির ঝড় তুলে নিজের আগমনী বার্তা দেয়া এই ডানহাতি পেসার। যদিও সর্বশেষ ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন আগেই, সাদামাটা এক ফেসবুক পোস্টে। তবে দেশের ক্রিকেটে তার অবদানের জন্য শেষটা রাঙিয়ে দিল তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বর্তমানে পরিচালিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সোমবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে শুরুর আগে রুবেলের হাতে বিশেষ এক সম্মাননা স্মারক তুলে দেন গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান রফিকুল বাবু। তিন ফরম্যাটের ফ্রেম বাধানো জার্সি পেয়েছেন ফাহিম সিনহার হাত থেকে।
এর আগে পেসার তাসকিন আহমেদ স্মৃতিচারণ করেন রুবেলকে নিয়ে। তাসকিন বলেন, ‘আমার এখনও মনে আছে ২০১৫ সালের ওয়ার্ল্ড কাপে ইংল্যান্ডের সাথে ম্যাচটা এমন একটা টাইট সিচুয়েশন ছিল এবং দুই বলে দুইটা উইকেট নিয়ে আপনি আমাদেরকে কোয়ালিফাই করতে সাহায্য করছেন। তো ওই কথাটাই এখনও মনে পড়ে যে “Don’t go for heroes and go for heroes” রুবেল হোসেন জিতেছে ম্যাচটা। অনেক মেমোরি বার্মিংহামেও মেমোরি আছে সেটা না বললাম কিন্তু থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ।’
নিজের বক্তব্যে এডহক কমিটির প্রধান হয়ে বিসিবি সভাপতির চেয়ারে বসা তামিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে রুবেল বলেন, ‘আমি যখন অবসর ঘোষণা করি, তখন আমার সাথে আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবাল আমাকে ফোন দিয়ে বলেন “রুবেল তোকে আমরা সম্মানিত করতে চাই।”

তো যে বিষয়টা আমার কাছে খুবই গর্বের এবং আনন্দের ছিল এবং আজকে এত সুন্দর একটি এনভায়রনমেন্ট তৈরি করেছে এত সুন্দর ভাবে আমাকে সম্মানিত করেছে এজন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবালকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।’
বিদায়বেলায় কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কোচ সারোয়ার ইমরানের প্রতিও। পেসার হান্ট থেকে উঠে আসার পেছনে ইমরানের অবদানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে রুবেল বলেন, ‘একটি মানুষের কথা না বললেই নয়। আমার আজকের রুবেল হোসেন হওয়ার পিছনে যে মানুষটার অবদান আমার কাছে অন্যরকম। আমাকে পেসার হান্ট থেকে নিয়ে এসে যে মানুষটা আমাকে উপরে ওঠার সিঁড়ি ধরিয়ে দিয়েছে তিনি আমার প্রিয় কোচ আমার শ্রদ্ধেয় সারোয়ার ইমরান স্যার। স্যারের প্রতি আমি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব এবং স্যারের জন্য আমি ভবিষ্যতে শুভকামনা এবং তার সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’
২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ১০৪ ওয়ানডেতে ১২৯ উইকেট, ২৭ টেস্টে ৩৬ উইকেটে ও ২৮ টি-টোয়েন্টিতে ২৮ উইকেট নিয়েছেন রুবেল।


