ঈদুল আজহার ছুটির আনন্দ ভাগাভাগি করতে পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল নামতে শুরু করেছে।
প্রতি বছর ঈদের দিন বিকাল থেকেই সৈকতে উপচে পড়া ভিড় থাকলেও, এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ঈদের দিন আশানুরূপ পর্যটক না আসায় হতাশা দেখা দিলেও, শুক্রবার সকাল থেকেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট।
সকালের সূর্য ওঠার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। সকাল থেকেই সৈকতের জিরো পয়েন্টে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। আগত পর্যটকরা সমুদ্রের ছোট-বড় ঢেউয়ের তালে তালে মেতে উঠেছেন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে।
কেউ প্রিয়জনের হাত ধরে সৈকতের বালুকাবেলায় হেঁটে বেড়াচ্ছেন, কেউবা আবার সৈকতের বেঞ্চে বসে সাগরের নীল জলরাশি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। বড়দের পাশাপাশি শিশুদের আনন্দও কম নয়, সৈকতের বালু চরে মনের সুখে বালু খেলায় মেতে উঠেছে তারা। সব মিলিয়ে পুরো সৈকত জুড়ে বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর আমেজ।
শুধু মূল সৈকত বা জিরো পয়েন্টই নয়, কুয়াকাটার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোতেও পর্যটকদের সমাগম চোখে পড়ার মতো। প্রকৃতির একদম কাছাকাছি গিয়ে ঈদের ছুটি উপভোগ করতে লেম্বুর বন, ঝাউ বন ও গঙ্গামতির চরসহ সবগুলো পর্যটন স্পটেই সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীর ভিড় বাড়ছে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘ঈদের দিন পর্যটক কিছুটা কম থাকলেও শুক্রবার সকাল থেকে পরিস্থিতি ভালো হচ্ছে। আমাদের আশা, আজ রাত থেকেই কুয়াকাটায় লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটবে এবং বুকিং আরও বাড়বে।’
বিপুল পরিমাণ পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আগত দর্শনার্থীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার না হন, সেজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে।


