বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ)-এর আলোচনা শেষ হয়েছে।
চুক্তিটি কার্যকর হলে বাংলাদেশের ৮ হাজার ৪২৮ পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, যা দেশের অন্যতম বড় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একই সঙ্গে চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার ১ হাজার ৫৪টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। ফলে বাজার উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছে।
মঙ্গলবার বাণিজ্য উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী হান-কু ইয়েও যৌথভাবে আলোচনার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
২০২৫ সালের আগস্টে শুরু হওয়া এ আলোচনা পাঁচ দফা আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
তবে চুক্তিটি এখনো কার্যকর হয়নি। দুই দেশের আইনি পর্যালোচনা, মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পরই এটি কার্যকর হবে।
চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য–বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যারসহ অন্যান্য পণ্য–প্রথম দিন থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার ধরে রাখা ও আরও সম্প্রসারণের দিক থেকে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একতরফা বাণিজ্য সুবিধার ওপর নির্ভরশীলতার পরিবর্তে এটি চুক্তিভিত্তিক বাজার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।
পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা খাতেও বাজার উন্মুক্ত করার বিষয়ে উভয় দেশ উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার করেছে।
বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য ৯৫টি সেবা উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য ১১১টি সেবা উপখাত চারটি মোডে খুলে দিতে রাজি হয়েছে। সরকারের আশা, এর ফলে কোরিয়ার বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্প সহযোগিতা আরও বাড়বে।
সিইপিএ নিয়ে আলোচনা পরিচালিত হয়েছে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ১১টি কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে।
প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের ২২ থেকে ২৭ আগস্ট সিউলে। পরে দক্ষিণ কোরিয়ায় তিনটি এবং বাংলাদেশে দুটি—মোট পাঁচটি আনুষ্ঠানিক দফা শেষ হয়। বাকি বিষয়গুলো নিষ্পত্তিতে দুই দেশের প্রধান আলোচকদের মধ্যে প্রায় ৪০টি ভার্চ্যুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে প্রধান আলোচক ছিলেন আয়েশা আক্তার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন পার্ক গিউন-ওহ। মঙ্গলবারের যৌথ ঘোষণায় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং উপ-প্রধান আলোচক মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষ হওয়ার অর্থ হলো দরকষাকষির পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। তবে রপ্তানিকারকেরা চুক্তির আওতায় শুল্ক সুবিধা পাবেন কেবল তখনই, যখন দুই দেশ আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, সেবা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকেও অন্তর্ভুক্ত করায় সিইপিএ বাংলাদেশের জন্য একটি প্রচলিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির চেয়ে বিস্তৃত কাঠামো তৈরি করবে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে।


