হাওর ও জলাভূমিতে দেশীয় মিঠাপানির মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষায় জলমহালের প্রচলিত ইজারা ব্যবস্থা পরিবর্তন করে নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভেন্যু পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, একসময় দেশের হাওর-বাঁওড়, নদী-নালা ও জলাভূমিতে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার, মাছের আবাসস্থল ধ্বংস এবং প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম কমে যাওয়ায় মিঠাপানির দেশীয় মাছের প্রাচুর্য কমেছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাওর ও জলাভূমিতে মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। সরকারি উদ্যোগে বড় গর্ত বা গভীর জলাধার তৈরি করে সেখানে মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, মাছের ডিম ও পোনা রক্ষা করা গেলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন বাড়বে। এ জন্য মিঠাপানির মাছের অভয়াশ্রমভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বরং বৈশ্বিক সমস্যা। সমুদ্রের পানি ও সামুদ্রিক মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণা ও সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি। মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর ‘চায়নাদুয়ারি জাল’ বন্ধের উদ্যোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এসব জালে ছোট পোনা থেকে বড় মাছ, এমনকি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও ধরা পড়ে। এতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ধরনের জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবীদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয় বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ জন্য বিভিন্ন এলাকায় মৎস্যজীবীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং তাঁদের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই আবার মাছের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ফিরে আসুক।’ হাওর, নদী ও জলাভূমিতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
জলমহাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের স্বার্থ এবং কৃষি ও মৎস্যসম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের কাজ চলছে এবং পরে তা সংসদে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী প্রজন্মের জন্য মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর কর্মসূচির প্রস্তুতি দেখতে সকালে মন্ত্রী পাকুন্দিয়া উপজেলার থানার ঘাট ঈশাখাঁ ব্রিজসংলগ্ন পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, বাহাদিয়া পাঠানবাড়ি ঘাট এবং মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাটে পোনা মাছ অবমুক্তির সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন।


