রাজধানীসহ পার্শ্ববর্তী মহানগরের জনসেবা কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তিন প্রশাসক। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মহানগরের নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রশাসকদের কথা ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং হতাশ না হয়ে জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সবুজায়নের মাধ্যমে ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম সাংবাদিকদের জানান, বিগত কয়েক মাসে কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আদায় না হওয়ায় দক্ষিণ সিটি বর্তমানে চরম অর্থ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিগত প্রশাসনের ঢালাওভাবে দেওয়া ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজ চালিয়ে গেলে সিটি করপোরেশন ভেঙে পড়ার উপক্রম হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এই সংকট উত্তরণে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ থোক বরাদ্দ চেয়েছেন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যেন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা করে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আবদুস সালাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যেন যেকোনো মূল্যে বর্জ্যের কারখানা থেকে ঢাকাকে মুক্ত করে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনে ইতিমধ্যে দক্ষিণ সিটিতে এক মাসের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম ও খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন উত্তর সিটির বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থাকে অত্যন্ত নাজুক ও ভঙ্গুর বলে বর্ণনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও বিপুল অঙ্কের টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি সাবেক প্রশাসক বিদায় নেওয়ার ঠিক দুদিন আগে ৩৪টি ফাইলে স্বাক্ষর করে গেছেন, যার বিপরীতে বড় অঙ্কের বিল পরিশোধের দায় তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে উত্তর সিটির তহবিলে মাত্র ২৫ কোটি টাকা অবশিষ্ট আছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতি মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদই খরচ হয় ১৩ কোটি টাকা। এই সীমিত অর্থ দিয়ে উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করা অত্যন্ত দুরূহ। তবে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে তারা জনকল্যাণে দেওয়া সব অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রশাসকগণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন।


