ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ‘অনির্দিষ্টকাল’ বাড়াতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনার জন্য ইরানকে আরও সুযোগ দিতে চান, তবে বুধবার পর্যন্ত সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে মিত্র ইসরায়েল কিংবা খোদ ইরান রাজি হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আক্রমণ স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছে। তবে কেবল যতক্ষণ না ইরানের নেতারা একটি যৌথ প্রস্তাব নিয়ে আসে এবং আলোচনা শেষ হয়। পাকিস্তানের নেতারা ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার আয়োজন করেছেন, যার লক্ষ্য ‘কয়েক হাজার প্রাণহানির কারণ হওয়া এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দেওয়া’ এই যুদ্ধের অবসান।
এদিকে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যে অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইরানের বন্দরে অবরোধ নিশ্চিত করবে, যা ইরানের দৃষ্টিতে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য।
বুধবার সকাল পর্যন্ত এ বিষয়ে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে তেহরান থেকে প্রাথমিক কিছু প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের বক্তব্যকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছে।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইরান কখনো যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর অনুরোধ করেনি এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভেঙে দেওয়ার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইরানের প্রধান আলোচক এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের একজন উপদেষ্টা বলেন, ‘ট্রাম্পের ঘোষণা তেমন গুরুত্ব বহন করে না এবং এটি সময়ক্ষেপণের একটি কৌশল হতে পারে।’
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেও সিএনবিসি-কে বলেছিলেন, তিনি যুদ্ধবিরতি চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত।
অবশ্য এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র চাপ ও হুমকির নীতি থেকে সরে এলে ইরান আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে আত্মসমর্পণের উদ্দেশ্যে কোনো আলোচনা তারা মেনে নেবে না।
অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার পর বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচার বেড়েছে, ডলারের দর ওঠানামা করেছে এবং তেলের দাম কমেছে।
সূত্র: রয়টার্স


