প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ

প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (বামে) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমন্ত্রণপত্র এসেছে। আমরা সেটা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছি।’

প্রসঙ্গত, আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ব্রিকসের সদস্য রাষ্ট্র না হলেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এ সময় ভারতে চলমান আন্দোলন, দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে আমরা আমাদের এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা এবং শান্তি বজায় থাকুক, সেটাই চাই।’

ভারতের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আমরা আশা করব, একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে তারা তাদের জনগণের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধানের দিকে এগিয়ে যাবে।

এ সময় সাংবাদিকরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন এবং পাকিস্তান, নেপাল ও মিয়ানমারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক-এই নীতিতেই বিশ্বাসী।

আরও পড়ুন

এদিকে, আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ সফরে আসতে যাওয়া দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিস পলের সম্ভাব্য সফর নিয়েও কথা বলেন শামা ওবায়েদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে সেই সম্পর্ক আরও জোরদার হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যেকোনো উচ্চপর্যায়ের মার্কিন সফর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলে আমরা মনে করি। আমরা আশা করি, এই সফরের মাধ্যমে আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে। বাণিজ্য, অর্থনৈতিক কূটনীতি, পিপল-টু-পিপল যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ব্লকের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রশ্নে তিনি সরাসরি মন্তব্য না করে বলেন, বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়টিই আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

এদিকে, সম্প্রতি বিদেশ সফরের সময় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন টেলিফোনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন—গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবর সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

তিনি বলেন, ‘এখনো এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পায়নি। যদি বিষয়টি সত্য হয়ে থাকে, অবশ্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্ত করবে। সরকারও বিষয়টি তদন্ত করবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad