পরিচয় লুকানোর চেষ্টা করেও রক্ষা হলো না ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনের

পরিচয় লুকানোর চেষ্টা করেও রক্ষা হলো না ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনের
মোবারক হোসেন ইমন। ছবি: ভিডিও থেকে পাওয়া
Advertisement
Advertisement

পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে নিজের নাম-পরিচয় বদলে ফেলেছিলেন। বড় গোঁফও কামিয়ে ফেলেছিলেন। নিজেকে ঢাকার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে দাবি করেছিলেন, পুরান ঢাকায় চাকরি করেন। কিন্তু পুলিশের জেরার মুখে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে যায় আসল পরিচয়। যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় তল্লাশি চৌকিতে গ্রেপ্তার হন চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন।

যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় বুধবার রাত ৩টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল একটি কালো রঙের প্রাইভেটকার থামিয়ে তল্লাশি চালায়। গাড়িতে থাকা চারজনের পরিচয় জানতে চাইলে ইমন ভুয়া পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে ইমন নিজের নাম ‘মেরাজ’ বলে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, তার বাড়ি ঢাকায় এবং তিনি পুরান ঢাকায় চাকরি করেন। তবে তার কথাবার্তায় সন্দেহ হলে পুলিশ আসল পরিচয় জানতে চায়। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, তার বাড়ি চট্টগ্রামে। নিজেকে আড়াল করতে নিজের পরিচিত বড় গোঁফও কামিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, ডেভিড ইমন তার তিন সহযোগীকে নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আগে থেকে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, তিনি সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ঝুমঝুমপুর এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসানো হয়। সেখানে তাকে ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেভিড ইমনের বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে। তার বাবা মো. মুসা একজন কৃষক।

আরও পড়ুন

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাধারণ কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠা ইমনের পড়াশোনা বেশি দূর এগোয়নি। তবে অল্প সময়ে চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে প্রভাব বিস্তার করেন তিনি। তাদের দাবি, দুবাইয়ে অবস্থানরত পলাতক সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার বাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন ইমন। নগরে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্বও তিনি দেখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের কুখ্যাত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার

পুলিশের তথ্যমতে, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অন্তত সাতটি গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত বাকলিয়া জোড়া হত্যা মামলা অন্যতম। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হওয়া একাধিক হত্যা মামলায়ও তার নাম এসেছে। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ঢাকাইয়া আকবর হত্যা এবং ২০২৪ সালের আগস্টে আনিস ও মোহাম্মদ হাসানকে ব্রাশফায়ারে হত্যার ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং হামলার ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad