তরুণীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে ভাইরালকাণ্ডে গাজী নজরুল ইসলামের শাস্তি ও এমপি পদ থেকে পদত্যাগের দাবি জানান সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপজেলার কাশিমাড়ী, নুরনগর, কৈখালী এবং শ্যামনগর সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিস চত্বরে শ্যামনগরের সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতার আয়োজনে মানববন্ধনে ফরিদুজ্জামানের সঞ্চলনায় বক্তব্য রাখেন মাওলানা আব্দুল কাইয়ুমসহ অন্যান্যরা।
উপজেলার নুরনগর ইউনিয়নের নুরনগর বাজারে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, নুরনগর ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম আলমগীরসহ অন্যান্যরা।
উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বংশীপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে ব্যবসায়ী ও গ্রাম্য চিকিৎসক আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, শ্যামনগর উপজেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আছাদুল্লাহ বাহার আছু, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম খলিল, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান প্রমুখ। এছাড়া উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের কাশিমাড়ী বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব বিক্ষোভ মিছিল থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে অবিলম্বে এমপি থেকে পদত্যাগের জন্য দাবি জানানো হয়। তা না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে বক্তারা এসময় তার শাস্তির দাবিও জানান।
গত সোমবার রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক তরুণীর সঙ্গে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে দেখা যায়। ফুটেজের বিভিন্ন অংশে তাকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে এবং ওই তরুণীর সঙ্গে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর প্রাথমিক অবস্থায় এর সত্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় এবং এটি ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ (এআই) দিয়ে তৈরি হতে পারে বলে দাবি করা হয়। তবে পরবর্তীতে একই কক্ষের আরও কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর, সংশ্লিষ্ট তরুণী গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী বলে দাবি করেন জামায়াতের স্থানীয় নেতারা। একই দাবি করেছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম নিজে, ওই তরুণী এবং তার বাবা।
এরপর বৃহস্পতিবার সকালে অন্য এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের আরও একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


