বছরের শেষ দিন গোপালগঞ্জ জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার সকাল ৬টায় জেলার তাপমাত্রা ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঘন কুয়াশা ও টানা শৈত্যপ্রবাহের কারণে শীতের তীব্রতায় অসহায় হয়ে পড়েছে কোটালীপাড়া উপজেলার ছিন্নমূল মানুষ। গত পাঁচ দিন ধরে সূর্যের দেখা না পাওয়ায় ঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে কাজে বের হতে পারছেন না দিনমজুররা।
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আবু সুফিয়ান জানান, বুধবার সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
দুপুরের পর শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও অতিরিক্ত ঠান্ডার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। দৈনন্দিন কাজে যেতে না পেরে থেমে আছে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন। শীতের তীব্রতায় কষ্টে আছে গৃহপালিত পশু-পাখি।
এ সময় ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগছেন শিশু ও বয়স্করা। কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কুমার মৃদুল দাস জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে।
এতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে এবং সীমিত চিকিৎসক সংকটে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে উদ্বেগ জানান তিনি।
এদিকে, কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, শীতার্ত মানুষের মাঝে সরকারিভাবে প্রাপ্ত কম্বল ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া শীতের তীব্রতা যতদিন থাকবে, ততদিন দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।


