নওগাঁয় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় ১৭ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম আব্দুস সালাম। তিনি ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন। এ ঘটনার জের ধরে বুধবার রাতে বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ করেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মারপিটের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, বুধবার বিদ্যালয় চললেও চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে কোন শিক্ষক ছিলেন না। এ সময় এক শিক্ষার্থী গান পরিবেশন করে। গানের শব্দ শুনতে পেয়ে সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেই ক্ষুব্ধ হোন এবং একখণ্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এতে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ২৩ জনের মধ্যে ১৭ শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আহতদের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে উভয় শিক্ষার্থী রয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বুধবার সন্ধ্যায় বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিদ্যালয়টির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, ‘আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ায় আমরা কয়েকজন ক্লাসে গান গাইছিলাম। সালাম স্যার আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করেন। এরপর স্যার এসে আমাদের সবাইকে মারে।’
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদেরকে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনার শিকার না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে ‘
শিক্ষার্থীদের মারধর করায় দুঃখ প্রকাশ করেন অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করব।’
একইভাবে এ ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেন নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি সে সময় বিদ্যালয়ে ছিলাম না। বিদ্যালয় ছুটির পরে ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। শিক্ষা বিভাগকে বিষয়টি অবশ্যই অবগত করব।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো: ছানাউল হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবো।’
এখনও কোনো অভিযোগ না পেলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান নওগাঁ সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান।


