ডিসেম্বরের আগেই জলাবদ্ধতাসহ ৩ প্রকল্প শেষ হবে: সিডিএ চেয়ারম্যান

ডিসেম্বরের আগেই জলাবদ্ধতাসহ ৩ প্রকল্প শেষ হবে: সিডিএ চেয়ারম্যান
পরিচিতি সভায় বেলায়েত হোসেন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ডিসেম্বরের আগেই চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও কর্ণফুলি নদীর তীরবর্তী কালুরঘাট থেকে চাক্তাই সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন। তিনি জানান, ডিসেম্বরেই প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প তিনটি উদ্বোধন করবেন। তার আগেই নগরবাসী প্রকল্পগুলোর সুফল পাবে।

বুধবার সকালে সিডিএ’র সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল ৯টায় তিনি প্রথম দিনের কার্যদিবস শুরু করে দপ্তরে যোগ দেন। এ সময় সিডিএ কর্মকর্তা, কর্মচারীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

পরিচিতি সভায় বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘সিডিএ চট্টগ্রামের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। আমার লক্ষ্য- সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে যেন এই বন্দর শহরকে একটি নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। আর এজন্য আপনাদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতা একান্ত প্রয়োজন৷ কেননা আপনাদের সহযোগিতা আমার কাজে সহায়ক হবে।’

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধিকাংশ কর্মকর্তার নিজ জেলা চট্টগ্রামে। তাই সবার এই জেলার প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। তা ছাড়া চট্টগ্রামের মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে সিডিএ’র কাছে। তাই শুধু সরকারি দায়িত্বে সীমাবদ্ধ না থেকে নগরের জন্য কিছু করার মানসিকতা নিয়ে আমাদেরকে কাজ করতে হবে। এই শহর আমাদের, এই নগর আমার, আপনার। তাই দায়িত্বও আমাদের।’

নগরকে সুন্দর করতে দ্রুত চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করা হবে জানিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পগুলো কার্যকরভাবে দ্রুত শেষ করা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমি দ্রুত প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করব।’

আরও পড়ুন

দুর্নীতির সঙ্গে নিজে সম্পৃক্ত হবেন না প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমি নিজেও দুর্নীতির সঙ্গে জড়াব না, আপনাদেরও বলব দুর্নীতি যেন আপনাদের কাছ থেকে শত মাইল দূরে থাকে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেন আমি এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারি।’

‘পিডিবি’র পিলারগুলো অনেক সময় সিডিএ’র উন্নয়ন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বলে জানতে পেরেছি। আমি সেগুলো নিয়ে কথা বলব। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন আমাদের সঙ্গে তেমন সম্পৃক্ত নয়। তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তা ছাড়া সব সংসদ সদস্যদের পরামর্শ নেব আমি। কারণ জনগণ তাদেরকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন। জনগণ সরাসরি সিডিএ’র সঙ্গে কথা না বললেও তাদের নিয়মিত জনসম্পৃক্ততা থাকে’, যোগ করেন তিনি।

অবৈধ দখলের বিষয়ে হুশিয়ারি করে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার দলের যত বড় নেতা হোক অবৈধ দখল করলেই উচ্ছেদসহ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন অবৈধ দখল, খাল, নালায় দখল করে ভবন তোলা আমি বরদাশত করব না। সে যতো বড় নেতা হোক। সরকারি জমি দখলে কোন ছাড় নয়।’

এ সময় তিনি সিডিএ’র কর্মকর্তাদের মেধা, শ্রম নগরের উন্নয়নে লাগানোর আহ্বান জানান। একইসঙ্গে গণমাধ্যমকে সবসময় সঠিক তথ্য দেওয়ারও নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘সংস্থা সম্পর্কে যেন কোন ভুল ধারণা না হয়। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন এবং কাজের প্রকৃত তথ্য সরবরাহে কোন কার্পণ্য চলবে না।’

সিডিএ’র গতি বাড়াতে নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘নাগরিকদের ভবন বা স্থাপনা তৈরিতে সিডিএ’র নকশা অনুসরণ করতে হবে। এর ব্যতয় যেন না ঘটে। কর্মকর্তাদের বলব, সিডিএ’র নকশার বাইরে যেন কিছু না হয়। ১০টি ভবন ঠিকভাবে করা হলো কিন্তু একটি যদি নিয়ম লঙ্ঘন করে তাহলে ওই এলাকার পুরো সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সার্বক্ষণিক সদস্য মোহাম্মদ নূরুলাহ নুরী, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad