নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমার শফিকুর রহমান। শনিবার সন্ধ্যায় জামায়াত আমিরের এক ফেসবুক পোস্টে এ আহ্বান জানানো হয়।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জন করেছে এবং এই ফলাফলকে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই নির্বাচনের ফলাফল একটি গভীর ও জটিল বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। নির্বাচনে বিএনপির প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোটের বিপরীতে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে একটি শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।’
বর্তমান ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ নির্বাচনী পদ্ধতির কারণে লাখ লাখ ভোটারের মতামতের যথাযথ প্রতিফলন ঘটছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে, ৫৩টি আসনে বিএনপি মাত্র কয়েক শত থেকে কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছে, যার মধ্যে বেশ কিছু আসন বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনাধীন রয়েছে, যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এটি জাতীয় ফলাফল প্রত্যাখ্যান নয়, বরং নির্দিষ্ট আসনগুলোতে ভোটের স্বচ্ছতা ও সততা রক্ষার একটি আইনি প্রচেষ্টা।’
গণতন্ত্রের স্বার্থে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাকে অপরিহার্য উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, যেখানেই ভোট গণনায় অনিয়ম বা বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে আইনগত কাঠামোর মধ্যেই পুনর্গণনা ও প্রতিকারের চেষ্টা চলছে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
সংবাদটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ত্যাগ ও সংস্কারের চেতনায় প্রণীত ‘জুলাই সনদ’ এবং পরবর্তী গণভোটে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার (৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ‘হ্যাঁ’ ভোট) সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
এটি পরিবর্তনের জন্য একটি স্পষ্ট জাতীয় ম্যান্ডেট। নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা এই ম্যান্ডেটকে সম্মান করে এবং আইনের শাসন সমুন্নত রেখে সংযমের সঙ্গে শাসনকার্য পরিচালনা করে।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে, বিএনপি নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা সংবিধানের নিয়মের মধ্যে থেকে দেশ পরিচালনা করেন এবং আইন লঙ্ঘনকারী যে কোনো কর্মীকে জবাবদিহির আওতায় আনেন।
পরিশেষে, জাতীয় এই মুহূর্তে পরিপক্বতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করা এবং সততা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।


