মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর সীমান্তে রাস্তা পাকাকরণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ চলাকালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাধা দিয়েছে।
রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিজিবির ধারণা বাধা দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। এরপরও পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে বিজিবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলা পরিষদের অর্থায়নে কাজীপুর বিজিবি ক্যাম্প থেকে আটজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর পর্যন্ত মাটির রাস্তা ইট বিছিয়ে পাকাকরণের কাজ চলছিল। এ সময় ভারতের নদীয়া জেলার গান্ধীনা ক্যাম্পের কয়েকজন বিএসএফ সদস্য সীমান্তের কাছে এসে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করতে বলেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে এসে বিএসএফ সদস্যদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশের প্রতিবাদ জানালে তারা নিজ সীমান্তে ফিরে যান।
কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আজিজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রাস্তা হওয়ায় স্থানীয়দের চলাচল এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। সেই সমস্যা সমাধানে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ চলাকালে বিএসএফ বাধা দেওয়ায় সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইন বলেন, সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় অতীতেও একাধিকবার এই রাস্তা উন্নয়নের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাস্তার অবস্থান বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে যথেষ্ট দূরে। তাই এ ধরনের বাধা অযৌক্তিক ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন পরিপন্থী।
তিনি জানান, প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ এই আটজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে বিজিবি। কাজীপুর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মিজানুর রহমান বলেন, বিএসএফ রাস্তা নির্মাণকাজে বাধা দিয়েছে—এমন তথ্য তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নেই, তবে বিষয়টি তিনি শুনেছেন।
বিজিবি ৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান রয়েছে। বিষয়টির সমাধানে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানাতে বিজিবি উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, রাস্তা নির্মাণকাজে বিএসএফ বাধা দিয়েছে—এ অভিযোগ সঠিক নয় বলে তাদের প্রাথমিক ধারণা।


