জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের (ইউএসটিআর) বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে এমন ৫৪টি অর্থনীতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, যাদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, জাপান, তাইওয়ান, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও কাতারসহ আরও কয়েকটি দেশ।
অন্যদিকে কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও ইকুয়েডরের মতো ছয়টি অর্থনীতির জন্য ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না। এ বিষয়ে জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত লিখিত মতামত জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। পরে এ বিষয়ে শুনানি করবে ইউএসটিআর।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রেয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মার্কিন শ্রমিকরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অসম পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।’
প্রস্তাবিত শুল্কে কিছু পণ্যের জন্য ছাড় রাখা হয়েছে। গবাদিপশু, কফি, কিছু ফল ও বাদাম, উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আসা পণ্য এবং কিছু বস্ত্র ও পোশাক এ ছাড়ের আওতায় থাকবে।
শুল্ক সংক্রান্ত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এই শুল্ক প্রস্তাব দিল। গত ফেব্রুয়ারিতে আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েকটি শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করে দিলে নতুন আইনি ভিত্তিতে স্থায়ী শুল্ক আরোপের পথ খুঁজতে শুরু করে প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১(বি)(১) ধারার আওতায় তদন্ত শুরু করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ যুক্তরাষ্ট্রমুখী রপ্তানি খাতের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে শুল্ক এখনো প্রস্তাব পর্যায়ে থাকায় এর চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে জনমত গ্রহণ, শুনানি এবং পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর।


