শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় টানা এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর আবারও খুলে দেওয়া হচ্ছে রপ্তানিমুখী শিল্পগোষ্ঠী প্যাসিফিক গ্রুপের আটটি পোশাক কারখানা।
বৃহস্পতিবার থেকে প্যাসিফিক জিন্স-১, প্যাসিফিক জিন্স-২, প্যাসিফিক অ্যাটায়ারস, প্যাসিফিক অ্যাক্সেসরিজ, প্যাসিফিক ওয়ার্কওয়্যারস, এইচটি ফ্যাশন ও জিন্স ২০০০ ও ইউনিভার্সেল জিন্স কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে।
মঙ্গলবার রাতে প্যাসিফিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর স্বাক্ষরিত আলাদা নোটিশে কারখানা খোলার ঘোষণা দেওয়া হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে ১৬ অক্টোবর থেকে কারখানাগুলোর কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ও কাজের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হওয়ায় ২৩ অক্টোবর থেকে পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সব কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের নির্ধারিত সময়ে নিজ নিজ বিভাগে উপস্থিত থেকে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে নোটিশে।
এর আগে, ১৪ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ১৬ অক্টোবর বিক্ষোভের সময় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯-এর ধারা ১২(১) অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
প্যাসিফিক গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার সুহৃদ চৌধুরী জানান, বিক্ষোভ চলাকালে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। এখন শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সব ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়েছে, কাজের পরিবেশও ফিরে এসেছে। তাই কারখানা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিইপিজেডের সবচেয়ে বড় রপ্তানিমুখী শিল্পগোষ্ঠীগুলোর একটি প্যাসিফিক গ্রুপ। এর আটটি ইউনিটে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করেন, যারা কারখানা পুনরায় চালুর খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।


