ঢাকার রামপুরা থানায় বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ দিতে গিয়ে পুলিশের করা মামলায় গ্রেপ্তার হন সোনিয়া আক্তার কেয়া। বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন। তার অভিযোগ, মামলা নিতে ঘুষ দাবি, আপত্তিকর প্রস্তাব, থানার ভেতরে মারধর ও পাল্টা মামলা দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সোনিয়া পূর্ব রামপুরার মমতাজ ভিলার ভাড়াটিয়া। কোরবানির ঈদের আগে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সময় তিনি বাসার চাবি বাড়িওয়ালা আলমগীরের কাছে রেখে যান। ফিরে এসে আলমারিতে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও চেক বই খোয়া গেছে দেখতে পান। ৫ জুন রামপুরা থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের খিলগাঁও অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার তৌফিক আহমেদের হস্তক্ষেপে লিখিত অভিযোগ নেওয়া হলেও তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি।
সোনিয়া বলেন, ৮ জুন রাতে থানায় গেলে রামপুরা থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ২ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওসি আপত্তিকর প্রস্তাব দেন। প্রতিবাদ করলে ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করেন। ফেসবুক লাইভে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওসির গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সোনিয়াকে এক পুলিশ সদস্য বলছেন, আপনি ভেতরে যান, আপনার মামলা নেওয়া হবে। অথচ পুলিশের দাবি, এর আগেই তার অভিযোগ এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল।
সোনিয়ার অভিযোগ, ওই রাতে তাকে থানার নারী সহায়তা ডেস্কে নিয়ে আবার মারধর করা হয়। মধ্যরাতের দিকে খিলগাঁও থানায় নিয়ে তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে মামলা করা হয়। পরদিন অসুস্থ হলে তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে আদালতের মাধ্যমে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে দুই দিন কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সাত দিন পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
পুলিশের মামলায় বলা হয়, সোনিয়া নারী কনস্টেবল আরিফা সুলতানাকে মারধর করেন ও তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ৮ ও ৯ জুন এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নিবন্ধন খাতায় এই নামে কোনো রোগীর তথ্য পাওয়া যায়নি। বিপরীতে হাসপাতালের নথিতে সোনিয়ার চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য লেখা আছে। জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত এক চিকিৎসক জানান, সোনিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
রামপুরা থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, সোনিয়া থানায় এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন ও এক নারী পুলিশ সদস্যকে মারধর করেন। সিসিটিভি ফুটেজে এর প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করলেও তা দেখাতে রাজি হননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।
সোনিয়া জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুলিশ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে ও সত্যতা পাওয়া গেলে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


