নাফ নদীর তোতারদ্বীপ সীমান্তে সংঘর্ষ, বাংলাদেশি নারী গুলিবিদ্ধ  

নাফ নদীর তোতারদ্বীপ সীমান্তে সংঘর্ষ, বাংলাদেশি নারী গুলিবিদ্ধ  
ফাইল ফটো
Advertisement
Advertisement

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষা নাফ নদীর তোতারদ্বীপ এলাকায় বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ)-এর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সংঘর্ষের জেরে সীমান্ত পেরিয়ে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসে বাংলাদেশের দিকেও, এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে টেকনাফ সীমান্ত এলাকায়।

শনিবার দুপুর ও বিকেলে দু’দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায়। এ সময় ছেনুয়ারা বেগম (৪০) নামে এক বাংলাদেশি নারী গুলিবিদ্ধ হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফার সংঘর্ষ দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফা বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে। সংঘর্ষের সময় আরাকান আর্মির কয়েকজন সদস্য একটি ট্রলারে তোতারদ্বীপের নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ঘাঁটিতে ফেরার পথে এআরএ সদস্যদের হামলার শিকার হন। পাল্টা আক্রমণে আরাকান আর্মি ক্ষুদ্র ও মাঝারি অস্ত্রের পাশাপাশি হালকা রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে গোলাবর্ষণ করে।

স্থানীয়দের মতে, সংঘর্ষ চলাকালীন মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া একটি গুলি বাংলাদেশ সীমান্তের হোয়াইক্যং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় এসে পড়ে। এতে ছেনুয়ারা বেগমের পায়ে গুলি লাগে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।

আরও পড়ুন

প্রত্যক্ষদর্শী মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘শনিবার বিকেলে হঠাৎ মিয়ানমারের তোতারদ্বীপ এলাকায় বিকট গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণ পর একটি গুলি আমার দোকানের টিনের ছাদ ভেদ করে ভেতরে পড়ে। তখন সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।’

আহত ছেনুয়ারা বেগম বলেন, ‘আমি বিকেলে বাড়ির উঠানে হাঁটছিলাম। হঠাৎ একটি গুলি এসে পায়ে লাগে। এরপর আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি।’

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমেদ আনোয়ারী বলেন, ‘গোলাগুলির শব্দ শোনার কিছুক্ষণ পরই জানতে পারি, আমাদের এলাকার এক নারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহেসান উদ্দিন বলেন, ‘হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় এক নারী গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

স্থানীয়রা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad