পুরো মাসজুড়ে বৈশাখ উদযাপনের পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ‘আঞ্চলিক নববর্ষ’ পালনের চিন্তা করছে সরকার।
মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ বাঙালির এক প্রাণের উৎসব। এবারের অত্যন্ত বর্ণাঢ্য বৈশাখী আয়োজনের সাফল্যের পর সরকার এবার আরও বড় পরিসরে নববর্ষ উদযাপনের কথা ভাবছে।’
‘এবার সরকার দায়িত্বে আসার পর খুব বেশি সময় পাওয়া যায়নি। বৈশাখকে কেন্দ্র করে শুধু তিন-চার দিন নয়, পুরো মাসজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’
মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং ভারতের কিছু অংশেও একই সময়ে নববর্ষ উদযাপন হয় জানিয়ে জাহেদ বলেন, ‘আঞ্চলিকভাবে এই উৎসব উদযাপন করা যায় কি না, তা আগামী বছর খতিয়ে দেখব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। এটি এক ধরনের সাংস্কৃতিক কূটনীতি গড়ে তুলতে পারে।’
সরকার কী ভাবছে, তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তাদের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিরা আমাদের দেশে আসবেন, আমাদের প্রতিনিধিরা ওই দেশগুলোতে যাবেন–এ ধরনের একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’
‘জ্বালানি সরবরাহ এবার বেশি’
তথ্য উপদেষ্টা দাবি করেন, গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় এবার পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ অনেক বাড়ানো হয়েছে।
বিআইডিসি স্পোর্টস ক্লাব পাম্প এবং সততাসহ রাজধানীর বেশ কিছু পাম্পের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ১৯ দিনে সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি ছিল।’
সরকারের কাছে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে জানিয়ে জাহেদ আরও বলেন, ‘মূলত অতিরিক্ত মজুদ বা “প্যানিক বায়িং” এর কারণেই সাময়িক সংকট তৈরি হচ্ছে।’
তেলের বাজারে ডিজিটাল তদারকি বাড়াতে ফুয়েল পাস অ্যাপ চালু করা এবং ড্রামে তেল বিক্রি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
সরকার রাশিয়ার তেল আমদানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ও কারিগরি বিষয়গুলো মাথায় রেখে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা।
তেলের দাম বাড়ানোর পর বাসের ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মালিক ও ভোক্তা- দুই পক্ষের স্বার্থই দেখার কথাও বলা হয় সংবাদ সম্মেলনে। জাহেদ বলেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ভাড়াকেও কয়েক স্তরে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
ঋণের কিস্তি ছাড়ে আইএমএফের শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক নয় বলেও দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘তবে অর্থনীতির স্বার্থে কিছু শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে।’
সরকারের ব্যাংক ঋণ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি উন্নয়নেরই অংশ, তবে এই অর্থ যেন সঠিক প্রকল্পে দুর্নীতিমুক্তভাবে ব্যয় হয়, সেদিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।’
আগের চেয়ে ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা অনেক বেড়েছে বলেও দাবি জানান তিনি।
সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতিও তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। জানানো হয়, ঢাকা–কাঁচপুর–সিলেট–তামাবিল মহাসড়ক চার লেন প্রকল্প এবং ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এরই মধ্যে উত্তরা ও সাভার এলাকায় প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে। বিমান চলাচল ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন ‘এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ উদ্বোধন করা হয়েছে।


