আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো ফরমাল বা আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষক দল আসবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে একটি স্বতন্ত্র (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) প্রতিনিধি দল আসবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মকর্তারা ভোট পর্যবেক্ষণে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তারা নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত প্রথাগত ‘ফরমাল অবজার্ভার’ হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব উদ্যোগে ভোটের অবস্থা দেখতে যাবেন।
বুধবার নির্বাচন ভবনে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব।
এবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোন ফরমাল অবজারভার টিম আসছে না জানিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন। তারা ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা-এই চার অঞ্চলে ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
এর প্রেক্ষিতে ইসির অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি এতে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। তারা কোথায় কোথায় যাবেন, সেই তালিকা আমাদের দেবেন বলেছেন। তালিকা পেলে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা (ফ্যাসিলিটেট) করব।’
তিনি বলেন, ভোটের দিন যানচলাচল সীমিত থাকার বিষয়ে প্রতিনিধি দল জানতে চাইলে জানানো হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কত সময়ের জন্য এবং কোন কোন যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে, তা মন্ত্রণালয়ই নির্ধারণ করবে।
বৈঠকে ব্যালট পেপারের আকার-আকৃতি এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সম্পর্কে মার্কিন প্রতিনিধিদের ধারণা দেওয়া হয়েছে।
ইসি সচিব বলেন, ‘ভোট আমরা কিভাবে করছি, কিভাবে ভোট কাউন্ট করা হবে, কোথায় আসবে, রেফারেন্ডামের ব্যালটের গণনার সময়সীমা কত ইত্যাদি বিষয়গুলো জানতে চেয়েছে তিনি। ওনাকে ব্যালট পেপারের আকার, আকৃতি সম্পর্কে বলেছি, সেটার একটা নমুনাও দেখিয়েছি ‘
সচিব বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি তারা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং মন্তব্য করেছেন যে, এটি বেশ জটিল ও কষ্টসাধ্য কাজ। তবে তারা পুরো ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের কোনো সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ছিল কিনা-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তারা কোনো অভিযোগ করেননি। বরং আমাদের ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা আমরা কীভাবে অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করছি, তা জানতে চেয়েছেন। আমরা তাদের জানিয়েছি যে, আমাদের কমপ্লেন ম্যানেজমেন্ট সেল, ইনকোয়ারি কমিটি এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। আজকেও একটি জেলা থেকে অভিযোগ এসেছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আমরা রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠিয়েছি।’
ভোটের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আখতার আহমেদ জানান, সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ নিরাপত্তা কর্মী বিভিন্ন স্তরে মোতায়েন থাকবে। মার্কিন প্রতিনিধিদের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।


