বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণে ২০৩০ সালের মধ্যে কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) সক্ষমতার ল্যান্ড-বেসড এলএনজি টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শুক্রবার জাপানের টোকিওর দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘১৫তম এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্স ২০২৬’-এ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার সময় তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, নগরায়ণ এবং বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বাড়লেও দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়ে তা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এলএনজি আমদানি দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউর মাধ্যমে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশে বছরে এলএনজির চাহিদা প্রায় ৭ মিলিয়ন টন।
চাহিদা মোকাবিলায় এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে অতিরিক্ত ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার আরও একটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীতে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার ল্যান্ড-বেসড এলএনজি টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে এলএনজি সক্ষমতা অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন টন এবং ২০৩১ থেকে ২০৪০ মেয়াদে তা ১৭ থেকে ১৮ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থায় ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন, সরবরাহে বিঘ্ন এবং বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে শুধু জ্বালানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করলেই হবে না। নির্ভরযোগ্যতা, উৎসের বৈচিত্র্য, সাশ্রয়ী মূল্য ও নমনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
এলএনজি সরবরাহের উৎস ও পদ্ধতির বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, জি-টু-জি, আন্তর্জাতিক দরপত্র এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সম্প্রতি ঘোষিত ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকা এ বিডিং রাউন্ডে মুনাফা স্থানান্তর, কর পরিশোধে সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব স্থিতিশীলতার মতো সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পারস্পরিক অংশীদারত্ব ও সহযোগিতায় বিশ্বাস করে।
টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গঠনে বন্ধুভাবাপন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশ একযোগে কাজ করবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।


