প্রথমে একটি সতর্কবার্তা এসেছিল। এরপর প্রকাশ্যে আসে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবটি ফেরত দেয় এবং কর্তৃপক্ষকে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ দেয়।
কিন্তু প্রক্রিয়াটি সেখানে থেমে থাকেনি। এক মাসের মধ্যে একই প্রস্তাব আবারও ক্রয় কমিটিতে ফিরে আসে। সরকারি নথিপত্রে দেখা যায়, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এটি পর্যালোচনার পর অনুমোদন দেন এবং কমিটির সামনে উপস্থাপনের সম্মতি জানান।
বাধ্যতামূলক অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত কাজ পায় ‘ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক মাসুদ আলম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সবকিছু এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যে, আমার প্রতিষ্ঠানকে কাজ না দেওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না।’
প্রকল্পটি পেতে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনেরও অভিযোগ উঠেছে।
টাইমসের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দরপত্র জালিয়াতিই আসিফের ৪৮৮ দিন মেয়াদের একমাত্র বিতর্ক ছিল না। প্রধান প্রধান প্রকল্পে খরচ বৃদ্ধি, প্রশাসনিক আপত্তি উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সরকারি সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে একাধিক অভিযোগের তথ্য মিলেছে।
এর মধ্যে একটি প্রকল্পে অতিরিক্ত ১২৭ কোটি টাকা খরচের প্রশ্ন উঠেছে। অন্য একটি প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ১ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। দরপত্র, কেনাকাটা, বদলি ও পদায়নে দুর্নীতি অভিযোগের ভিত্তিতে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেওয়া আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল এই পরিবর্তন কেবল নেতৃত্ব বদলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাও বদলে দেবে।
তবে আসিফের মেয়াদের সরকারি নথিপত্র সেই প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। নথিতে দেখা যায়, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের সম্পর্কের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সম্পদ বণ্টনের পুরনো ধারা তখনো বজায় ছিল।
এর আগে টাইমসে’র অনুসন্ধানে মুহাম্মদ ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য শেখ বশিরউদ্দীনকে নিয়েও একই ধরনের অভিযোগের কথা উঠে এসেছিল।
যেভাবে ফিরে আসে দরপত্র
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘৪৮টি জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ৩০০ কোটি টাকা খরচে ২৮ হাজার ৮০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অভিযোগ ওঠে, প্রকল্পটি তৎকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মাসুদ আলমের প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ১১ আগস্ট আসিফ মাহমুদের দপ্তরে এ বিষয়ে একটি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। তবে প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের প্রস্তাবটি ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়। ২০ অক্টোবর তা সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটিতে তোলা হয়।
কমিটি এতে অনিয়ম খুঁজে পেয়ে প্রস্তাবটি ফেরত পাঠিয়ে নতুন দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ দেয়।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রক্রিয়াটি সেখানেই শেষ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি।
একই প্রস্তাব ২১ নভেম্বর পুনরায় ক্রয় কমিটির সামনে আনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত দুটি সূত্র জানায়, কয়েকজন সদস্য এতে আপত্তি তুললেও আসিফ মাহমুদ এটি অনুমোদনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘কমিটির সামনে একাধিক অনিয়মের কথা তোলা হয়েছিল, বিশেষ করে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকার বিষয়টি। সে কারণেই নতুন দরপত্রের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আসিফের জেদের কারণেই ত্রুটিপূর্ণ দরপত্রটি পাস হয়ে যায়।’
সরকারি নথিতেও আসিফের ভূমিকার প্রমাণ রয়েছে। দ্বিতীয়বার প্রস্তাবটি উপস্থাপনের আগে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. রেজাউল মকসুদ জাহেদী স্বাক্ষরিত সারসংক্ষেপে বলা হয়, ‘যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রস্তাবটি দেখেছেন ও অনুমোদন করেছেন এবং ক্রয় কমিটিতে উপস্থাপনের সম্মতি দিয়েছেন।’
কমিটি পরবর্তীতে প্রস্তাবটি অনুমোদন করে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ৫ ডিসেম্বর এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন এবং সরকার ৯ ডিসেম্বর ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ছিল না
দরপত্রের প্রাথমিক আগ্রহ প্রকাশ (ইওআই) শর্তানুযায়ী প্রশিক্ষণ প্রদানের ১০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে ৫ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক ছিল।
তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের ই-ট্রেড লাইসেন্স সার্ভার থেকে জানা যায়, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ২০২০ সালের ২৩ অক্টোবর তাদের কার্যক্রম শুরু করে। যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, এটি একই বছরের ৫ নভেম্বর নিবন্ধিত হয়।
এত কিছুর পরও প্রতিষ্ঠানটিকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়, মূল্যায়নে উচ্চ নম্বর দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি তাদেরকে দেওয়া হয়।
মাসুদ আলমের দাবি, দেশব্যাপী তাদের নেটওয়ার্ক থাকার কারণে তারা সুবিধা পেয়েছেন।
তবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নথিপত্র বলছে, যোগ্য ঘোষিত চার দরদাতার সবারই দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক ছিল। অন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো-নিউ হরাইজন্স সিএলসি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আইটি ইনস্টিটিউট এবং এসইও এক্সপার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড।
৩০ কোটি টাকার অভিযোগ
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, প্রকল্পটি পেতে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের দপ্তরে ৩০ কোটি টাকা দিতে হয়েছিল। এক রেকর্ডকৃত কথোপকথনে মাসুদ আলম নিজেই বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দাবি অনুযায়ী, আসিফের তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এই লেনদেনের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন।
যেহেতু কথিত এই লেনদেনটি নগদে হয়েছিল, তাই অর্থ আদান-প্রদানের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ কেবল এই একটি প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ নয়। দুর্নীতির অভিযোগের পর ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তিনি দুদকের তদন্তের মুখোমুখি হন। গত ৩০ মার্চ সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার একটি আদালত তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
আবেদনে সিআইডির সাব-ইন্সপেক্টর মো. আবদুল হান্নান উল্লেখ করেন, ‘পদে থাকাকালে মোয়াজ্জেম হোসেন লবিং বাণিজ্য, দরপত্র ম্যানিপুলেশন ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।’
পরবর্তীতে এখতিয়ারগত কারণে সিআইডি তাদের তদন্ত স্থগিত করে। সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ বশির উদ্দিন জানান, মোয়াজ্জেম সাবেক সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় বিষয়টি দুদকের এখতিয়ারভুক্ত।
১২৭ কোটি টাকার প্রশ্ন
প্রকল্পের খরচ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। ২৮ হাজার ৮০০ জনকে প্রশিক্ষণের জন্য ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের অর্থ হলো, প্রতি প্রশিক্ষণার্থীর পেছনে খরচ ১ লাখ চার হাজার টাকারও বেশি।
প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য খাবার ও পরিবহন ভাতা বাবদ দৈনিক ৫০০ টাকা বরাদ্দ ছিল। ৭৫ দিনে জনপ্রতি এই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা।
অনুরূপ বেসরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং মাঠপর্যায়ের খরচ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রশিক্ষণ, খাবার, পরিবহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জনপ্রতি প্রায় ৬০ হাজার টাকার মধ্যেই দেওয়া সম্ভব।
এর অর্থ হলো, প্রতি প্রশিক্ষণার্থীর ক্ষেত্রে প্রায় ৪৪ হাজার টাকা বা সামগ্রিকভাবে প্রায় ১২৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ‘দরপত্র প্রক্রিয়ায় মারাত্মক অনিয়ম ছিল। সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিংকে কাজ দেওয়া হয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার জেদের কারণেই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।’
অন্য প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি
আসিফের মেয়াদে উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের ব্যয়ও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০২১ সালে ১ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকায় অনুমোদিত প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট দ্বিতীয় সংশোধনীর পর দাঁড়ায় ২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকায়, যা প্রায় ১ হাজার ২০৬ কোটি টাকার বৃদ্ধি।
একনেক বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র দাবি করে, কয়েকজন সদস্য আপত্তি তুললেও আসিফ এই দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদনের জন্য চাপ দেন।
একটি সূত্রের দাবি, ‘আসিফের অনুরোধের কারণেই তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তার আপত্তি তুলে নেন।’
স্থানীয় সরকার বিভাগে থাকাকালে আসিফ নিজ জেলা কুমিল্লার জন্য ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বিশেষ অবকাঠামো প্রকল্প নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েন। তার নিজ উপজেলা মুরাদনগর সর্বোচ্চ ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পায়।
তবে এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, মুরাদনগর জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার উপজেলা ছিল না এবং কুমিল্লাও শীর্ষ জেলা ছিল না।
পরবর্তীতে তার বাবা বিল্লাল হোসেন আসিফের মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা এলজিইডি থেকে ঠিকাদারি লাইসেন্স গ্রহণ করেন, যা স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তোলে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে আসিফ ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং পরবর্তীতে তার বাবার লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের জুনে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিকিউরিটি চেকিংয়ের সময় আসিফের হাতব্যাগে গুলি ও অস্ত্রের ম্যাগাজিন পাওয়া গেলে তিনি বিতর্কের মুখে পড়েন।
তিনি দাবি করেন, জিনিসগুলো ভুলবশত ব্যাগে রয়ে গিয়েছিল এবং তার অস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে।
পরবর্তীতে, চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি জানে আলম অপু গুলশানের একটি চাঁদাবাজির ঘটনায় আসিফের নাম উল্লেখ করেন। আসিফ এই সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন এবং অভিযোগটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেন।
দুদক ও বিএফআইইউর তদন্ত
দায়িত্ব ছাড়ার পর আসিফ মাহমুদ দুদক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আসেন।
চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বদলি, নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়ন, দরপত্র ও কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে আসিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ৪ সদস্যের একটি দল গঠন করে দুদক।
দুদকের নথিতে দরপত্র ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ৯ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দুদক কর্মকর্তাদের মন্তব্য তার সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।
এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি বিএফআইইউ আসিফের নামে সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয়। সংস্থাটি একটি বেসরকারি ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সাইটের সঙ্গে যুক্ত লেনদেনের তথ্য খুঁজে পায়। এ বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও পুরোনো দুর্নীতির কাঠামো অক্ষত রয়ে গেছে কি না জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান টাইমসকে বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদী চোরতন্ত্রের পতন হয়েছে, তাই বলে কর্তৃত্ববাদী চোরতান্ত্রিক চর্চার পতন হয়েছে—এমন বলার সুযোগ খুব একটা নেই।’
তিনি বলেন, ‘সরকারি ক্রয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দখলবাজির বড়জোর হাতবদল হয়েছে। ৫ আগস্ট ২০২৪ বিকাল থেকেই জুলাই অভ্যুত্থানে যারা বিজয়ী শক্তি হিসেবে বিকশিত হয়েছেন, তাদের প্রভাবশালী অংশের মধ্যে “এবার আমাদের পালা”তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র পরিচালনায় দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেই সম্ভাবনাই জিম্মি হয়ে পড়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদের বক্তব্য জানতে তার দুটি ফোন নম্বর, এসএমএস এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বারবার চেষ্টা করা হয়। তার কাছে অভিযোগের বিস্তারিত পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে ৯ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদক তাকে জানান, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে এবং প্রকাশের আগে তার বক্তব্য প্রয়োজন। আসিফ বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানান।
বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। তবে ফোন, বার্তা ও হোয়াটসঅ্যাপে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা সত্ত্বেও আসিফ মাহমুদ কোনো মন্তব্য করেননি।
আরও পড়ুন: ব্যবসায়িক স্বার্থে রাষ্ট্রীয় পদ ব্যবহার করেছেন সাবেক উপদেষ্টা বশির


