সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় কতটা সুযোগ রয়েছে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ দাবি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এর বিচার চেয়ে প্রসিকিউশনে মামলার বাদী নওশের আলমের আবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, এই মামলার তদন্তের আইনি এখতিয়ার ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কতটুকু আছে, তা আমি জানি না।
আমিনুল বলেন, ‘আবেদনটি খতিয়ে দেখা হবে, এই হত্যাকাণ্ড “ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক” অপরাধের আওতায় পড়ে কি না। যদি ঘটনাটি “ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক” অপরাধের আওতায় না আসে, তাহলে তা ভুক্তভোগী পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’ আর যদি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড ওই ধরনের অপরাধের আওতায় পড়ে, তাহলে বিষয়টি দেখা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে সাগর-রুনি হত্যাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার জন্য চিফ প্রসিকিউটরের কাছে আবেদন করেন মামলার বাদী নওশের।
আবেদনের ভাষ্যমতে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় খুন হন সাগর-রুনি।
আবেদনে বলা হয়, পরিবারের সদস্যরা চান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারী ও দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনুক এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুক। এ জন্য অভিযোগটি কমপ্লেইন্ট রেজিস্ট্রারভুক্ত করে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২)(এ) ধারায় হত্যা, ধর্ষণ, আটক, অপহরণ, গুম ও মানবপাচারের মতো কিছু কর্মকাণ্ডকে শর্তসাপেক্ষে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ওই প্রসিকিউটরের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ড কোনো বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত ব্যাপকভিত্তিক ও পদ্ধতিগত আক্রমণের অংশ হিসেবে সংঘটিত হলে তা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি বলেন, এই ধারা অনুযায়ী কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটলেই তা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে না। হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে ব্যাপকভিত্তিক ও পদ্ধতিগত আক্রমণের শর্তও পূরণ হতে হবে। ফলে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনি এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না, তা নির্ভর করবে ঘটনাটি ওই আইনে নির্ধারিত ‘ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক’ অপরাধের শর্ত পূরণ করে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত ও পর্যালোচনার ওপর।


