কনসার্ট আয়োজন নিয়ে আপত্তির পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কনসার্টের পরিবর্তে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কলেজের মূল ভবনের সামনের মাঠে আলোচনা সভা এবং পেছনের ছাত্রাবাস এলাকার মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
রোববার দুটি ভেন্যুতেই সাজসজ্জার কাজ চলতে দেখা গেছে। সোমবার এই নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে, গত শুক্রবার নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কনসার্টের আপত্তি জানিয়ে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
পরদিন শনিবার বিষয়টি নিয়ে এমপি খালেদ হোসেন কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনার পর কলেজের ছাত্রাবাস এলাকার দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, কলেজে সব ধর্মের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। ধর্মীয় মূল্যবোধকে আমরা সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখি। পাশাপাশি সংস্কৃতিকে ধরে রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে নবীনবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে।
তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা কীভাবে নবীনদের বরণ করবে, এটি কলেজের নিজস্ব বিষয়। এখানে বহিরাগত কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী ও কলেজ কর্তৃপক্ষের।’
কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘আমাদের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের চারদিকে বাউন্ডারি দেওয়া রয়েছে। তাই বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি এই ক্যাম্পাসে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা আব্দুল খালেক জানান, ‘অশ্লীলতা হবে না’ এই শর্তে দক্ষিণ ক্যাম্পাসের মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। তবে কলেজের মূল মাঠে কোনো কনসার্ট বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন বলেন, ‘কনসার্ট আমরা কখনো বলিনি। আমাদের দাওয়াতপত্রেও নবীনবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথা উল্লেখ আছে। সেখানে কনসার্টের কথা নেই। আমরা কনসার্ট করব না, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।’
তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানটি মূলত কলেজের শিক্ষার্থীদের আয়োজন এবং শিক্ষার্থীরাই এর ব্যবস্থাপনায় যুক্ত রয়েছেন।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির আগমন উপলক্ষে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে। উচ্চশব্দে গান বাজানো নিয়ে পাশের জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ ৩০ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আহত হন এবং অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়।
এ ছাড়া গত ৩০ মে কওমি শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি নৌকা বাইচ আয়োজনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি সভাতেও সাউন্ড বক্স ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন>>>


