চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড চেয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। একই সঙ্গে ১১৮ গ্রাম কোকেন উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার এসএম মহসিন ও রিয়াদুল আহম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ।
রোববার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি মামলায় এসব রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আগামী মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।
পুলিশের এসআই রাজীব কান্তি দে বলেন, ৬৩ বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আর কোকেন মামলার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
কোকেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ তানভীর ভূইয়া বলেন, ‘মামলার দুই আসামি মহসিন ও রিয়াদুল আহম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদে পাঁচ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছি।’
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নগরের দক্ষিণ খুলশীর ২ নম্বর সড়কের বিশ্রাম ভবনের নিচতলায় স্টেড ফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, এলআইসি শাখা ও জেলা পুলিশের সদস্যরা সেখানে অভিযান চালান।
কুরিয়ার কার্যালয়ে বুকিং থাকা মালামাল তল্লাশি করে দুটি পলিব্যাগ থেকে ৬০ ও ৫৮ গ্রাম- মোট ১১৮ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, উদ্ধার করা কোকেনের আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের বাসিন্দা রিয়াদুল আহম্মেদ এবং ঢাকার দক্ষিণখানের কলিল বক্স রোডের মো. আলমগীরকে আসামি করে খুলশী থানায় মামলা করা হয়। পরে শনিবার চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ এলাকার বাসিন্দা এসএম মহসিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কোকেনের চালান আটকের পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে এলআইসি শাখার গোয়েন্দারা খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি আটতলা ভবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার তথ্য পান।
পুলিশ জানায়, প্রায় পাঁচ দিন তথ্য সংগ্রহের পর থানা-পুলিশ, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, এলআইসি শাখা, র্যাবসহ বিভিন্ন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ওই ভবনে অভিযান চালান। ভবনের বিভিন্ন তলায় সার্ভার স্টেশন ও কম্পিউটারসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়। সেখান থেকে অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করা হয়।
অভিযানে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিকসহ ৬৩ জন বিদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, তাদের কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি।
পরে তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়। আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে সিটিসি।
আরও পড়ুন>>>
ম্যাচ চলাকালে অনলাইন গ্যাম্বলিং, চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি গ্রেপ্তার


