আদাবরে কব্জিকাটা গ্রুপের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

আদাবরে কব্জিকাটা গ্রুপের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি: র‌্যাবের সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর আদাবর এলাকায় কিশোর গ্যাং বাহিনী কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপের কার্যক্রম সক্রিয় করে পুনর্গঠন করতে নেতৃত্ব দেওয়া শাহীনসহ এই গ্যাংয়ের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-২। এ সময় তাদের কাছ থেকে থানা লুটের ২৭ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি ওয়ান শুটারগান, দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়।

রোববার বিকালে বসিলা র‍্যাব-২ হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক মো. নয়মুল হাসান এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তাররা হলেন শাহীন ও তার দুই সহযোগী ফরিদ এবং শিকদার লিটন।

নয়মুল হাসান বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপের প্রধান ও গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা মো. আনোয়ারকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-২।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এ গ্রুপের সদস্যরা নিয়মিতভাবে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হতে থাকলে কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

এই সুযোগে শাহীন নামে এক কিশোর গ্যাংয়ের হোতা কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপের কার্যক্রম পুনর্গঠনের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ ও গ্রুপটি সক্রিয় করার চেষ্টা করছিল।

আরও পড়ুন

এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার ভোররাতে রাজধানীর আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শাহীন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে থানা থেকে লুট হওয়া ১৮ রাউন্ড ৯ এমএম পিস্তলের ও ৯ রাউন্ড চাইনিজ রাইফেলের তাজা গুলি, একটি ওয়ান শুটারগান, একটি দেশীয় অস্ত্র (সামুরাই), ৩ হাজার ৩৩৫ পিস ইয়াবা ও ৫ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি এক সিএনজি চালকের কাছে চাঁদা দাবি করলে চাঁদা না পেয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে শাহীন পালিয়ে যায়।

এ ছাড়া, ১১ এপ্রিল আদাবরে পাঠাও ডেলিভারিম্যানের কাছ থেকে সর্বস্ব ছিনতাইয়ের সময় শাহীন নেতৃত্ব দিয়েছিল বলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

শাহীন এর নামে শেরেবাংলা নগর ও আদাবর থানায় দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতিসহ চারটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া ফরিদের নামে মোহাম্মদপুর থানায় নন-এফআইআর-এর একটি মামলা এবং লিটন শিকদারের নামে আদাবর থানায় চুরির একটি মামলা রয়েছে।

তাদের গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক বলেন, হারানো সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে সম্প্রতি র‍্যাবকে লিড এজেন্সি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-২ ও অন্যান্য ব্যাটালিয়ন অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছে।

ইতোমধ্যে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত কেউ অস্ত্র বা গোলাবারুদ সমর্পণ করলে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না; বরং তাকে নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। র‍্যাব-২ ও অন্যান্য ব্যাটালিয়নের হটলাইনে গোপনে তথ্য দিয়ে অস্ত্র বা গোলাবারুদ সমর্পণ করে নগদ অর্থ পাওয়ার সুযোগ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হলো।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর