২০২৪ সালের প্রথম দিকে বাংলাদেশ সরকারকে পাঁচটি অত্যাধুনিক প্রিজন ভ্যান উপহার দেয় ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন কেরানীগঞ্জ কারাগারে অচল অবস্থাতেই পড়ে ছিল এসব গাড়ি।
বুধবার সকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ব্যবহার হয় এই প্রিজন ভ্যান।
কারা সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন দেশে অনুদান কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। এ কারণে উপহার পাওয়া এসব গাড়ির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। সে সময় বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তরের জন্য দেওয়া পাঁচটি প্রিজন ভ্যানের রেজিস্ট্রেশনের অনুমোদন সম্পন্ন হয়। তবে গাড়িগুলোর রেজিস্ট্রেশন শেষ হলেও সেগুলো কেরানীগঞ্জ কারাগারে রাখা হয়।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ‘প্রিজন ভ্যানগুলো শুধুমাত্র ভিআইপি বন্দিদের জন্য নয়। যে কোনো আসামি স্থানান্তরে প্রয়োজন হলে এগুলো ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে দুটি গাড়ি কাশিমপুর কারাগার, দুটি কেরানীগঞ্জ এবং একটি চট্টগ্রাম কারাগারের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।’
আধুনিক এসব প্রিজন ভ্যানে উন্নতমানের এসি, জিপিআরএস ট্র্যাকিং সিস্টেম এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা আছে বলেও জানান তিনি।

জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ‘প্রিজন ভ্যানের ভেতরে ও বাইরে সিসি ক্যামেরা, জিপিআরএস ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে প্রতিটি গাড়ির অবস্থান রিয়েল টাইমে দেখা যায়। এমনকি দরজা বা জানালা খোলার চেষ্টাও মনিটরে দেখা যায়। এতে করে কেউ আসামি ছিনিয়ে নিতে পারবে না।’


