ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে উদযাপিত হল বাংলা নববর্ষ। প্রশাসনের উদ্যোগে এই উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল বৈশাখী শোভাযাত্রা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে প্রত্যেক বিভাগের শোভাযাত্রা বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা মঞ্চে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে বাংলা বিভাগ। অনুষ্ঠানে গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তি, নাটক ও খণ্ডচিত্রর আয়োজন করা হয়।
বাংলা মঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বর্ষবরণ উৎসব উদযাপনের সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির আহ্বায়ক মো. রাশিদুজ্জামান ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা ওবায়দুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

পহেলা বৈশাখের পরিবর্তে দ্বিতীয় দিন বর্ষবরণ আয়োজিত হওয়ায় হতাশা জানালেও বৈশাখী আয়োজনে স্বস্তি প্রকাশ করেন তারা। এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজকের উৎসবমুখর পরিবেশ, শোভাযাত্রা, সাজসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সব মিলিয়ে অসাধারণ লেগেছে। এতে আমরা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে পারছি।’
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বৈশাখ মানে সাম্প্রদায়িক-অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে সবাই একসঙ্গে চলা। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা দেখি বৈশাখের প্রথম দিনেই বিভিন্ন বিভাগ থেকে অনেক আয়োজন থাকে। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সেটি দ্বিতীয় দিনে হচ্ছে। বিষয়টি আমার কাছে কিছুটা বিব্রতকর লাগলেও উৎসব হচ্ছে ভেবে ভালো লাগছে। আশা করছি পরবর্তীতে আমরা আরও ভালো কিছু পাব প্রশাসনের পক্ষ থেকে।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপাচার্য নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘বৈশাখ আসে পুরানোকে ঝেরে ফেলে নতুনকে জাগ্রত করার জন্য। বৈশাখের প্রথম দিন নববর্ষ উদযাপন বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য ভাবে জড়িয়ে আছে। বৈশাখ আমরা বাঙালির জীবন থেকে মুছে ফেলতে পারব না। এই দিনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নববর্ষের শপথ হলো- আগামীর বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাব।’


