প্রশিক্ষণ শেষে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য ২৫ জন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর নারীকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে খাগড়াছড়ি সমাজসেবা অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ির শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের হলরুমে প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে এ আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানান সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবু আব্দুল্লাহ মো. ওয়ালি উল্লাহ। তিনি জানান, এ টাকা ব্যাংকের প্রশিক্ষণার্থীদের একাউন্টের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
পিছিয়ে থাকা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীদের স্বাবলম্বী করার জন্য অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওয়াতায় দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১৫ দিন ব্যাপী ২৫ জন অনগ্রসর নারীকে ‘ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিং ও বিউটিফিকেশন’ প্রশিক্ষণ দিয়েছে সমাজ সেবা অধিদপ্তর খাগড়াছড়ি। শুধু প্রশিক্ষণ নয়, তারা যাতে প্রশিক্ষণের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারেন পেলেন আর্থিক সহয়তাও।
সারা দেশের ন্যায় খাগড়াছড়িতে বসবাস করেন কামার, কুমার, তাতী, মুচিসহ নানান অনগ্রসর জনগোষ্ঠি লোকজন, যারা সমাজে এখনো অবহেলিত। সেই ধরনের পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠীদের স্বাবলম্বী করার জন্য উদ্যোগ নেয় সমাজসেবা অধিদপ্তর। সেই অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের আওতায় ২৫ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর নারীকে ‘ড্রেস মেকিং এন্ড টেইলারিং ও বিউটিফিকেশন’ এর ওপর ১৫ দিনে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এই প্রশিক্ষণে তাদের প্রতিদিন ৫০০ টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা ও প্রশিক্ষণ শেষে আর্থিক সক্ষমতা উন্নয়নের জন্য ৫০ হাজার করে এককালীন আর্থিক সহযোগিতাও প্রদান করে সমাজসেবা অধিদপ্তর। তবে এ টাকা তাদের ব্যাংকের একাউন্টের মাধ্যেমে প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণটি গত ২০ মে উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া।
ড্রেস মেকিং এন্ড টেইলারিংয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া কর্ণলতা ত্রিপুরা, অনিকা দাস ও ননি দাস বলেন, প্রশিক্ষণে আসার আগে তারা সেলাই মেশিন বা সেলাই সর্ম্পকে তাদের কোনো ধারণা ছিল না। এই প্রশিক্ষণটা যদিওবা মাত্র ১৫ দিনের হয়, এই প্রশিক্ষণ থেকে তারা অনেক কিছু শিখেছেন, বিশেষ করে ‘লিমা আর পেটিকেটি’ সেলাই। এই প্রশিক্ষণ তাদের ব্যাক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে কাজে লাগবে।
অন্যদিকে, বিউটিফিকেশন শিখতে আসা শিখা দেববর্মন ও নীতুশ্রী নাথ বলেন, এই প্রশিক্ষণ শেষে তারা যে কেউ যদি কোনো বিউটি পার্লারে চাকরি করতে চান বা নিজে বিউটি পার্লার খুলতে চান, সেটা তারা পারবেন।
খাগড়াছড়ি সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু আব্দুল্লাহ মো. ওয়ালি উল্লাহ বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্পের, দক্ষতা উন্নয়নের আওয়াতায় খাগড়াছড়িতে ২৫ জন নারী ‘ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিং ও বিউটিফিকেশন’ এর ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণ ভাতা হিসেবে প্রতিদিন ৫০০ টাকা ও তাদের আর্থিক স্বাবলম্বীর জন্য প্রশিক্ষণ শেষে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে এককালীন অনুদান দেওয়া হয়েছে।


