রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এখনো নির্বাচনের তফসিল ঠিক হয়নি। আমরা ভোটার তালিকা পাঠানোর জন্য সংসদ সচিবালয়কে অনুরোধ করেছি। সেটি এখনো পর্যন্ত পায়নি। ভোটার তালিকা পাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে চর্চা হবে।’
সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনও যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আমাদের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নাই। ফলে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সময়সীমা পরিবর্তন হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।’
আইন সংশোধন নিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংশোধনের কিছু প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞা স্পষ্ট করা, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সুপারিশগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। আইনের মালিকানা স্থানীয় সরকার বিভাগের। আমাদের দুইজন নির্বাচন কমিশনার দেশের বাইরে আছেন, তারা আসার পরেই এটা পাঠাব।’
আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্ভব কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, তফসিল ঘোষণা থেকে নির্বাচনের তারিখের মধ্যে সাধারণত ৪৫ দিনের ব্যবধান থাকে। এ ছাড়া ভোটার তালিকা চূড়ান্ত ও প্রিন্ট করতে আরও প্রায় দেড় মাস সময় লাগে। সব মিলিয়ে একটি নির্বাচনের জন্য প্রায় তিন মাসের একটি ব্যাকওয়ার্ড ক্যালকুলেশন বা প্রস্তুতি সময় প্রয়োজন হয়। তারপর এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ের কথা আসছে, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের কথা বলা হয়েছে, আবার ডিসেম্বরের কথাও শুনেছি। সুস্পষ্ট কোন তথ্য না থাকায় এ বিষয়ে আমার কিছু না বলাই ভালো।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘আমার জানা মতে সেরকম যোগাযোগ হয়নি। তবে, আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো ধীরগতি নেই।’
‘প্রস্তুতির তিনটা অংশের একটা হচ্ছে বিধিমালা ও আইন সম্পর্কিত, দ্বিতীয়টি ইকুইপমেন্ট রিলেটেড, আর তৃতীয় ধাপ হচ্ছে ট্রেনিং। আচরণ বিধিমালা প্রস্তুত করেছি। ইকুইপমেন্ট আমাদের আছে, ভোট কেন্দ্র আছে। এরপর লাগবে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ। টিওটি মডেলে মাস্টার ট্রেইনার ডেভেলপ করে কাজ করবো। আমাদের প্রস্তুতি চলমান,’ যোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সংলাপের বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে জানানো হয়েছে যে, ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিধিমালা নিয়ে তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। বাড়তি কোনো সংলাপের বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেই।
আইন অনুযায়ী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে বিগত পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হয়।
এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘যেহেতু ওইদিন শুক্রবার ছিল, তাই ২ আগস্ট পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছিল। ৫৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে একটি স্থগিত আছে (আওয়ামী লীগ)। বাকি ৫৮টি দলের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতসহ ৩৮টি দল আয়-ব্যয়ের হিসাব তাদের জমা দিয়েছে। ১৩টি দল সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে এবং আটটি দল কোনো সাড়া দেয়নি। যারা সাড়া দেয়নি, তাদের আইন অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হবে।’


