জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ১৭ জনকে হত্যার অভিযোগে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ৪ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২, এ আদেশ দেয়। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।
এর আগে, ২২ জুলাই এ মামলায় চার আসামিকে হাজিরের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। তারা হলেন, ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ মুন্না এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম খান। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় আটজন এবং ২০ জুলাই আরও নয়জন নিহত হন।
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে প্রসিকিউশন বিবেচনা করছে বলে জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
২ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী: শহীদ পরিবার ও আহতদের গণশুনানি’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা জানান।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, যাত্রাবাড়ীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৭৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শুধু ৫ আগস্টেই ৫০ থেকে ৫৫ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শহীদদের প্রাথমিক তালিকায় ৮৫ জনের নাম শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তৎকালীন সরকারের কিছু পুলিশ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ করেন তিনি।


