আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচনের জন্য অবিলম্বে তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে এনসিপির আইনজীবী সংগঠন ন্যাশনাল ল’ অ্যালায়েন্স (এনএলএ)।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স ভবনের সামনে এক ব্রিফিংয়ে এ দাবি জানান এনসিপির আইন সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মুসা।
মুসা বলেন, ‘আগামী ১৯ মে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গেজেট পাবলিকেশন হয়েছিল এবং সেই গেজেট অনুযায়ী আজ নির্বাচনের ফর্ম উত্তোলন এবং ফর্ম জমাদানের সর্বশেষ সময় ছিল। ইতোমধ্যে এনসিপি সমর্থিত ন্যাশনাল ল’ অ্যালায়েন্স বার কাউন্সিলের ১৪টি পদের বিপরীতেই পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সারা দেশ থেকে আমাদের আইনজীবীরা ফরম উত্তোলন করেছেন। কিন্তু গতকাল গভীর রাতে বার কাউন্সিলের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বলা হয়েছে ১৯ তারিখের নির্বাচনটি স্থগিত। ’
তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে দাবি জানাচ্ছি অবিলম্বে বার কাউন্সিলের নির্বাচন ঘোষণা করতে হবে। আইন অনুযায়ী ভোট হতেই হবে। ভোট না হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ভোট না হলে বিএনপির লোকজন একটা এডহক কমিটি গঠনের নামে বেআইনিভাবে বার কাউন্সিল দখলে রাখার চেষ্টা করতে পারেন।’
মাসদার হোসেন সম্পর্কে তিনি বলেন, খুবই দুঃখজনকভাবে বার কাউন্সিল বুধবার রাতে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করে। আমরা বার কাউন্সিল অর্ডারের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো দেখেছি। আমাদের মতে এই নোটিশটি সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। কারণ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের যে প্রবিধান রয়েছে, সেই অনুযায়ী কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে সেখানে একটি ট্রাইবুনাল গঠিত হবে এবং ট্রাইবুনাল তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে তার বক্তব্য শুনবে। এরপরে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবে। কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে মিটিং করে কারও সনদ স্থগিত করার বিধান বার কাউন্সিলের আইনে নেই।
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, যে প্রক্রিয়ায় তাকে এই পদক্ষেপটি দেওয়া শুরু হয়েছে, এটি মোটেও একটি আইনানুগ প্রক্রিয়া নয় এবং এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনএলএ আহ্বায়ক এস এম আজমল হোসাইন, সদস্য সচিব ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এরশাদুল বারী খন্দকার, যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার মোস্তফা শরীফি, যুগ্ম সদস্য সচিব লাবাবুল বাসার, যুগ্ম সদস্য সচিব রুহি সামসাদ আরা ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন প্রমুখ।


