সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানরা আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নির্ধারিত সময় অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক অচলাবস্থা বা মতবিরোধ যেন নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিপথগামী না করে।
শনিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিন বাহিনীর প্রধানরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা যায় তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা। বৈঠকে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র টাইমস অব বাংলাদেশকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জুলাই সনদকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। তিন বাহিনীর প্রধানরা মত দেন, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের অচলাবস্থা বা বিতর্ক সৃষ্টি না হয়। প্রধান উপদেষ্টা এই অবস্থানের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন বলে সূত্র জানায়।
প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি।
সূত্র জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টাকে তিন বাহিনী প্রধান জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে মোতায়েন থাকা সৈন্যরা ‘ক্লান্ত’ এবং নির্বাচনী দায়িত্ব শেষে ব্যারাকে ফিরতে আগ্রহী।
তারা আশ্বস্ত করেন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী নির্বাচনের জন্য দ্রুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সক্ষম, তবে সরকারের উচিত নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা এবং যেকোনো তদন্ত বা পদক্ষেপে পক্ষপাতিত্ব না করা।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা তিন বাহিনী প্রধানদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও জোরদার ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
শনিবার রাতের বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউনূস বলেন, ‘গত ১৫ মাসে জাতীয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর অক্লান্ত প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
বৈঠকে তিন বাহিনীর প্রধানরা নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কেও প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। জানা গেছে, নির্বাচনের সময় সারা দেশে প্রায় ৯০ হাজার সেনা সদস্য, আড়াই হাজার নৌ সদস্য ও দেড় হাজার বিমান বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকবেন। প্রতিটি উপজেলার জন্য একটি সেনা কোম্পানি মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


